ডা. শফিকুর রহমান

প্রয়োজনে জীবন দেবো, তবু মায়েদের সম্মানহানি হতে দেবো না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির, ছবি: জাগো নিউজ

 

লক্ষ্মীপুরের ময়দান রক্তে ভেজা। একসময় লক্ষ্মীপুরের সব ঘাস লাল হয়ে গিয়েছিল শহীদদের রক্তে। জুলাই এসেছিল বলেই আমরা কথা বলতে পারছি। কেউ কেউ এদেরকে স্বীকার করতে চায়। বাচ্চা-কাচ্চা, নাতি-পুতা বিভিন্ন কথা বলে অপমান করতে চায়। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, যাদের কারণে স্বাধীনতার সুফল পেয়েছেন, তাদের প্রতি এ আচরণ লজ্জা, লজ্জাজনক। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, যে রাজনীতি দেশকে চাঁদাবাজিতে অস্থির করে তুলেছে। আমার মা-বোনকে বেইজ্জত করেছে। জনগণ সে রাজনীতির পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই হ্যাঁ ভোটে সিল মারতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নিতে হবে। তারপরে ১১ দলের প্রার্থীদের মার্কায় ভোট দিতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা বলেছি, আমরা দুর্নীতির ব্যাপারে আপসহীন, আমরা মামলা বাণিজ্য করবো না। আমরা সে কথা রেখেছি। এবার কথা দিচ্ছি জনগণ যদি ভোট দেয় আমরা কথা রাখবো। আমরা পেছনের দিকে দৌড়াবো না। আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।

যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা তোমাদের বেকার ভাতা তুলে দেবো না। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করবো না। আমরা সবার হাতে কাজ তুলে দেবো। বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দেবো। তোমাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি জোগাতে চাই। তোমরা যেভাবে স্বৈরাচার তাড়ানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পরেছিলে, সেইভাবে দেশ গঠনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছে যুবক।

মেয়েদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এ আন্দোলনে মেয়েরাও সমানতালে লড়েছে। ১৫ জুলাই ঢাবিতে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি মেনে নেয়নি।

বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে জীবন দেবো, তবু মায়েদের সম্মানহানি হতে দেবো না। একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে গায়ে হাত। মর্নিং শোজ দ্যা ডে, আপনাদের আচরণে জাতি বুঝতে পারছে, আপনারা কী করবেন? যে নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, সে অন্যের মাকেও সম্মান করতে জানে না। অনেকে সমাজে-রাষ্ট্রে অবদান রাখেন। কিন্তু ঐ অর্থে মর্যাদা পান না। আমরা কার কি ধর্ম এটাও দেখবো না, সবার সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

যে মায়েরা শহীদ ওসমান হাদি, আবু সাঈদের মতো সন্তানের জন্ম দেয়, তারা কাউকে থোড়াই কেয়ার করে না। কেউ যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, সেক্ষেত্রে সরকারকে বলুন। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলুন। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আপনারা কে? শেরপুরে রেজাউল করিমকে শহীদ করেছে। আপনারা ভয় দেখান? আমরা জীবন দেবো কিন্তু হার মানবো না।

শহীদ ডা. ফয়েজের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্মীপুরে গরীবের ডাক্তার শহীদ ফয়েজ আহমেদকে নির্যাতন করে বাসার ছাদ থেকে জীবন্ত মানুষকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই লক্ষ্মীপুরে বড় বড় আলেম, জাতীয় নেতার জন্ম হয়েছে। জামায়াত, তাবলীগ, কওমি, আলিয়া সবাই মিলে আমরা বাংলাদেশ। কারো চোখ রাঙানি মানবো না। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, প্রভু থাকবে না। কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা। আলিয়ার শিক্ষাকে সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। তারা আমাদের মাঝে বিরোধ লাগাতে চায়।

এখানে এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ছিল, তা ধ্বংস করা হয়েছে। মেঘনা নদীর বাঁধ হয় না, মানুষের পেটে ঢুকে যায়। বিদেশে যে টাকা পাচার করা হয়েছে, সে টাকা তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনা হবে তারপর সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন হবে। কোনো এলাকা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, সেটাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল পরিচালক এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহিদীসহ জনসভায় জামায়াতসহ ১১ দল মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএএস/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।