যেভাবে রাজনীতিতে টিকে যান জেনারেল এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে একদল উচ্ছৃঙ্খল সামরিক কর্মকর্তা। এর প্রায় দুই বছর পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমানকেও ১৯৮১ সালে হত্যা করে সামরিক কর্মকর্তারা। তবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করা জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ টিকে যান।

ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান জেনারেল এরশাদ। স্বৈরশাসক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এইচ এম এরশাদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। কীভাবে সেটা সম্ভব হলো- তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন।

এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা পায় ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। আসন পায় ১৪০টি। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট, ৮৮টি আসন। গণআন্দোলনের মুখে পতনের পরও এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টি চতুর্থ রাজনৈতিক দল হিসেবে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পায়, আসন পায় ৩৫টি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এরশাদের ১১ শতাংশ ভোট পাওয়াতে তিনি এ দেশের রাজনীতিতে টিকে যান।

এমন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র ফিরে এলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, প্রধান দুই দলের কাছে ভোটের রাজনীতি প্রাধান্য পায়। সেই সুযোগে জেনারেল এরশাদ এবং তার দল জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বৈধতা পায়।’

‘যেহেতু প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের শেয়ার খুব কাছাকাছি এবং আমাদের যে ইলেকটোরাল সিস্টেম, তাতে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কেউ অল্প ভোটের ব্যবধানে জিতে যেতে পারেন। ফলে এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং অন্যদিকে জামায়াত, যাদের কাছে ছয় বা সাত শতাংশ ভোট আছে, প্রধান দুই দল তাদের কাছে টানে। এভাবেই এরশাদ রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হন’- যোগ করেন রওনক জাহান।

তবে বিষয়টাকে একটু ভিন্নভাবে দেখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ। তার বক্তব্য, ‘আমাদের দেশে রাজনীতির যে বিভাজন, দুই পরাশক্তি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ, এদের একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে খেলিয়ে অনেক সময় এরশাদ সুবিধা নিতে পেরেছেন।’

এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো সুদূর অতীতটা ভুলে যাই, নিকট অতীত মনে রাখি। এরশাদের যত খারাপ কাজ আছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা, সংবিধানকে বিকৃত করা- অনেক কিছু তিনি করেছেন। কিন্তু ওই যে গণতন্ত্রের কথা বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, তারা তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তাকে শাস্তি দিতে চাননি। শাস্তি যদি দিতেও চেয়ে থাকেন, সেটাও হচ্ছে, শাস্তির ভয় দেখিয়ে ব্যবহার করা। এজন্যই এরশাদ টিকে গেছেন।’

বিবিসিকে ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সানজিদা আকতার নামে এক শিক্ষার্থী বলেছিলেন, ‘এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা এবং দেউলিয়াপনার কারণে এরশাদের মতো স্বৈরশাসক এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে রয়েছে।’

পিডি/এমএআর/এএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন