ঈদের পর পার্টি অফিসে আর আসেননি এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯

যে অফিসকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। প্রতি সপ্তাহেই আসা-যাওয়া করতেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও যেখানে ছুটে এসেছেন। বনানীর সেই পার্টি অফিসে ঈদের পর আর পা পড়েনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের।

পার্টি অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

তারা জানান, গত ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে বনানীর পার্টি অফিসে এসেছিলেন এরশাদ। নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে দুপুর ১২টার দিকে পার্টি অফিস থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর আসেননি।

তারা জানান, ঈদের আগে অসুস্থ এরশাদ ১৫ রোজায় পার্টি অফিসে একবার এসেছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগে প্রতি সপ্তাহে বনানীর এ পার্টি অফিসে আসতেন তিনি।

ershad

দীর্ঘদিন ধরে পার্টি অফিসে পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ করা শাহানাজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি দশ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আগে আমার স্বামী কাজ করতেন। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর স্যার (এরশাদ) আমাকে চাকরি দেন।

তিনি বলেন, অসুস্থ হওয়ার আগে স্যার নিয়মিত এ পার্টি অফিসে আসতেন। বিদেশে বা অন্য কোনো মিটিং না থাকলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার তিনি পার্টি অফিস আসতেন। স্যার এ অফিস খুব ভালোবাসতেন।

'স্যার শেষ এ পার্টি অফিসে এসেছেন গত রোজার ঈদের দিন। নামাজ পড়ে পার্টি অফিসে এসে বেলা ১১টার দিকে তিনি পার্টি অফিস থেকে বের হয়ে যান। অন্য বছর স্যার পার্টি অফিসে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকতেন। কিন্তু এবার একটু আগেই বের হয়ে গিয়েছিলেন-বলেন শাহনাজ।

ershad

তিনি বলেন, স্যার খুব ভালো মানুষ ছিলেন। স্যার যখন ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন তখন আমার স্বামী স্যারের কাজ করতেন। এরপর স্যার ক্ষমতা হারিয়ে জেলে যান। জেল থেকে বের হলে আমার স্বামী স্যারের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর স্যার আবার আমার স্বামীকে চাকরি দেন। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি নিজেই আমাকে চাকরি দিয়েছেন।

পার্টি অফিসে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা ওহিদুল ইসলাম বলেন, আট বছর ধরে পার্টি অফিসে কাজ করছি। স্যার অসুস্থ হওয়ার আগে নিয়মিত পার্টি অফিসে আসতেন। সর্বশেষ পার্টি অফিসে এসেছেন গত ঈদের দিন। এর আগে অসুস্থ শরীর নিয়ে রোজার মধ্যে স্যার একবার পার্টি অফিসে এসেছিলেন। তার আগে নিয়মিত পার্টি অফিসে আসতেন।

তিনি বলেন, স্যার আর পার্টি অফিসে ফিরে আসবে না সে কথা আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। স্যার এই অফিস খুব ভালোবাসতেন। একবার সিএমএইচে চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় বাসায় না যেয়ে, সরাসরি পার্টি অফিসে এসেছিলেন। ভালোবাসার এ পার্টি অফিসে আর স্যারের পা পড়বে না। এটা বিশ্বাস করতে পারছি না।

এমএএস/এএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন