হেফাজত নায়েবে আমিরের চিঠি প্রত্যাখ্যান

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় যাবে না কওমি কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

কওমি শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হেফাজতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানে রহমানের ৮ দফা সুপারিশ সংবলিত চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের কওমি মাদরাসাসমূহের সরকার স্বীকৃত ইসলামি শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া।

রোববার (৭ আগস্ট) বোর্ডের অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মিজানুর রহমানের সুপারিশসমূহকে ব্যক্তিবিশেষের সুপারিশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।

গত ২৫ জুন নিজেদের ফোরামে আলোচনা না করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ৮ দফা সুপারিশ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান। এ বিষয়ে ‘এক চিঠি নিয়ে একমাস পর হেফাজতে তোলপাড়!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ। কওমি ধারার দ্বীনি শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নয়নকল্পে সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ শীর্ষক চিঠিতে মিজানুর রহমান ৮টি সুপারিশ করেন। ওই চিঠির সূত্র ধরে আগামী ১০ আগস্ট বৈঠক ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে ৮ দফা সুপারিশের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কওমি মাদরাসার বোর্ড প্রধানদের ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকের খবর ও গণমাধ্যমের সংবাদে তোলপাড় শুরু হয় হেফাজত নেতাদের মধ্যে। এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন সংগঠনটির নেতারা। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে সংঘটিত কার্যকলাপের সঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৬ বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একইভাবে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী, আল-হাইআতুল উলয়া ও ৬ বোর্ডের কেউ নন। তার প্রেরিত পত্রের সুপারিশমালা একান্তই তার ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৬ বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ডাকা ১০ আগস্টের সভার সঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৬ বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেহেতু সভায় অংশগ্রহণে ৬ বোর্ডের পক্ষ হতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আল-হাইআতুল উলয়ার ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং চেয়ারম্যানের পত্র হস্তান্তর করেছেন। সেই সঙ্গে ১০ আগস্টের সভায় অংশগ্রহণে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৬ বোর্ডের প্রতিনিধিগণের অপারগতার কথা জানিয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, স্থায়ী কমিটির সভায় এক প্রস্তাবে বলা হয়, কওমি মাদরাসার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা রক্ষা করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে যে আইন (২০১৮ সনের ৪৮ নং আইন) পাস হয়েছে তা অক্ষুণ্ন রাখতে উলামায়ে কেরাম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর ব্যতিক্রম কিছু উলামায়ে কেরাম, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং জাতীর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

তাই কওমি মাদরাসার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এ বিষয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ারও অনুরোধ করা হয়।

এসএম/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।