“যদি তামিম চায় অবশ্যই আমি ‘না’ করবো না”
নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিবির সাবেক পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনকে বিসিবিতে ডাকেন তামিম ইকবাল। এ কারণেই ২১ মাস পর বিসিবিতে গিয়েছিলেন সুজন। তামিমের সঙ্গে এই সাক্ষাতের ব্যাপারে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিষ্কার করেছেন তিনি।
সুজন বলেন, ‘কোনো মিটিংয়ে যাইনি। আসলে তামিম ফোন করে বলেছিল আপনি বোর্ডে আসেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন সিসিডিএমের মিটিংয়ে নাকি? ও বলল মিটিং না, আপনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন। আপনার সাথে আমার অনেক কথা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেও ওর সাথে যোগাযোগ ছিলই। কিন্তু এই প্রথম বোর্ড ছাড়ার পর কোনো সভাপতি ফোন করে যখন ডাকছে তখন তো আমি না করতে পারি না। এজন্যই যাওয়া। প্রায় ২১ মাস পর মনে হয় বোর্ডে গেলাম। মূলত, তামিমের সঙ্গে দেখা করতে গেছি।’
সেখানে মূলত ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানান সুজন। তার ভাষায়, ‘ক্রিকেট নিয়েই কথা হচ্ছিল। দিন শেষে যখন আমরা ক্রিকেটাররা বসি তখন ক্রিকেট নিয়েই কথা হয়। ওইখানে আরও অনেক ক্রিকেটার ছিল। শাহরিয়ার নাফিস, মিঠুন, রাজ, মুকুল, রাহুল, নান্নু ভাই ছিল, আরও অনেকে ছিল।’
নতুন সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদীও সুজন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তামিম অনেক বেশি রোমাঞ্চিত, অবশ্যই ও ভালো কিছু করতে চায়। আমি বিশ্বাস করি আমরা একজন ভালো সভাপতি পাব। সত্যি কথা যে কাজগুলো আমরা এতদিন মুখে মুখে বলেছি কিন্তু করি নাই। তামিম সেগুলো করে দেখাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি তামিমকে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি ও ক্রিকেট নিয়ে যতটা সিরিয়াস ছিল, অনুশীলন নিয়ে যতটা সিরিয়াস ছিল আমার মনে হয় ওই স্পিরিটটা এখানেও (বিসিবি সভাপতি হিসেবে) বজায় রাখছে। ও খুবই সিরিয়াস।’
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তামিম চাইলে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি ক্রিকেটের মানুষ, ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলছি, ক্রিকেট মাঠ ছাড়িনি। ক্রিকেট খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়ে এসেছি, সংগঠক হিসেবে আমি এত বছর ধরে কাজ করছি। আমার অভিজ্ঞতা যদি তামিম চায় অবশ্যই এটা না করার কিছু নেই।’
বিসিবি ছাড়ার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো অভিমান ছিল না বলেও জানান সুজন। তার ভাষায়, ‘আমার আসলে রাগ-অভিমান ছিল না। দেশের প্রেক্ষাপটই এরকম, বলে আসলে লাভ নেই। আমাদেরকে এটা মেনে নিতে হবে। আমরা কী কাজ করতে পেরেছি বিসিবিতে, ভালো কিছু করতে পেরেছি কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমার মেয়াদে আমি ক্রিকেটের জন্য শতভাগ এফোর্ট দিয়ে চেষ্টা করেছি ভালো কাজ করার। পেরেছি নাকি পারিনি সেটা বিচার করার দায়িত্ব মানুষের। আমি আমার ঢোল পেটালে তো হবে না।’
সুজন আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে করি তামিমকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তামিম মনে হয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সবার সাথে মিলে কাজ করতে পারবে। তামিমের ইচ্ছেও সেটা যে ও একা কিছু করতে চায় না। সবাইকে নিয়ে কিভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ওর সেই চিন্তা আছে।’
এসকেডি/আইএইচএস/