আশরাফুল
‘রাত ১০টায় ঘুম, ভোরে ওঠা-২১ বছর আগে যেমন দেখেছি মুশফিক এখনও তেমন’
তিনি মুশফিকুর রহিমকে শুরু থেকে দেখছেন। মুশির টেস্ট অভিষেক তার চোখের সামনে। মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বেই খেলেছেন। আবার মুশফিকের অধিনায়কত্বেও খেলেছেন আশরাফুল। মুশফিক যে ম্যাচে প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, সেই একই টেস্টে আশরাফুলের সামনেও ছিল ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি। কিন্তু আশরাফুল ১৯০ রানে ফিরে যাওয়ায় সে সাফল্যের ফলক স্পর্শ করা হয়নি। তবে মুশফিক ঠিকই কাঙ্ক্ষিত ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে আশরাফুল আর মুশফিকের ২৬৭ রানের পার্টনারশিপটা এখনো পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড হয়ে আছে।
টেস্ট ক্রিকেটের সেই প্রথম দিন থেকে মুশফিককে খুব কাছ থেকে দেখা আশরাফুল এখনো তাকে দেখছেন। তবে সেটা কোচ হিসেবে। টিম হোটেল, টিম বাস, ড্রেসিং রুমে, অনুশীলনে তো বটেই; আজকের সেঞ্চুরিটিও ড্রেসিংরুম আর ডাগআউটে বসেই দেখেছেন জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ আশরাফুল।
মুশফিকের নিয়ম মানা ও সুশৃঙ্খল জীবনের প্রশংসা বরাবরই শোনা যায় আশরাফুলের মুখে। বারবার বহুবার মুশফিকের সুশৃঙ্খল জীবনের অকুণ্ঠ প্রশংসা করা আশরাফুল মুগ্ধ চোখে দেখেছেন মুশফিকের ১৪ নম্বর টেস্ট শতকটি।
মুশফিকের একাগ্রতা, আত্মনিবেদন, রানক্ষুধা আর ইনিংস সাজানোর ধরন ও কৌশলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আশরাফুল। তার মূল্যায়ন, ‘মুশফিক আসলে একদমই পাল্টায়নি। সেই টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রার প্রথম দিন থেকে দেখেছি, জেনেছি রাত সাড়ে ৯টা থেকে সর্বোচ্চ ১০টা। আবার কখনো কখনো রাত ৯টা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়তো মুশফিক। এখনো তাই করে। সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে যায়। ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে।
পাঠকরা শুনে ও জেনে অবাক হবেন, আজ ১৮ মে-ও সেই ফজরের সময় উঠে নামাজ পড়ে সকাল সোয়া ৭টায় টিম হোটেল থেকে বেরিয়ে গেছেন মুশফিক।
সোমবার রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে এ তথ্য দিয়ে টিম বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, ‘একজন মানুষ, একজন ক্রিকেটার এতটা নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে পারে, সেটা মুশফিককে না দেখলে আসলে বিশ্বাস করা যায় না। আমিও বিশ্বাস করতাম না। সেই ২১ বছর আগেও দেখেছি সে রাত ১০টার আগে ঘুমিয়ে পড়ে। আর ফজরের সময় উঠে নামাজ পড়ে সবার আগে জিমে ও প্র্যাকটিসে চলে যায়। আজ সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনও ঠিক সেই কাজটিই করেছে।’
‘আজকেও সকাল সোয়া ৭টায় হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে জিমে গিয়ে জিমওয়ার্ক করেছে। জিমওয়ার্ক শেষে নিজের প্রস্তুতি যা যা নেওয়ার, মানে ক্যাচিং, হালকা ব্যাটিং নক করে নিলো।’
‘তারপর ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটিং করলো। প্রথম এক ঘণ্টা খেলল নিরাপদ ক্রিকেট। আউট হব না—এই মর্মে দীক্ষিত হয়ে। এতটাই সতর্ক ও সাবধানী ছিল যে, প্রথম ১ ঘণ্টায় একটি মাত্র বাউন্ডারি হাঁকালো। তাও ঠিক ড্রিংকসের আগে। সারভাইভ করে খেলে প্রথম ঘণ্টা কাটিয়ে দিল। টাফ টাইমটা পার করল। তারপর খেলল নিজের মতো করে।’
‘এই যে ডিটারমিনেশন, এটাই মুশফিকের বৈশিষ্ট্য। উইকেট দেবে না। এগুলো দেখে বোঝা যায়, তার আত্মনিবেদন ও সিরিয়াসনেস কত বেশি। এগুলো দেখেই বোঝা যায় যে, কীভাবে সে ১০০ টেস্ট খেলেছে! এমনি এমনি খেলেনি’-বলে শেষ করেন আশরাফুল।
এআরবি/এমএমআর