সবার সাথে অনুশীলন করে উৎফুল্ল রিয়াদ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

শুরুতে একদমই ব্যক্তিগত অনুশীলন ছিল। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব ছিল। শারীরিক স্পর্শ বহুদুরে, কারো সাথে কারো দেখা পর্যন্ত হয়নি। ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনুশীলনের সময়-সূচি জানিয়ে দেয়া হতো। একেকজন একেক সময় মাঠে এসে রানিং, জিমওয়ার্ক ও হালকা ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করে চলে যেতেন। সময়ের সাথে সাথে সেই অনুশীলনে এসেছে রদবদলের হাওয়া।

প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চললো ছোট ছোট দল বেঁধে মানে চার থেকে পাঁচজনের গ্রুপেই চলছে প্র্যাকটিস। আর আজ ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় সন্ধ্যা অবধি একটানা তিন ঘন্টা ১৬ ক্রিকেটার একসঙ্গে মিলেমিশে অনুশীলন করলেন।

রোববার দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই শেরে বাংলায় আবার প্রাণের স্পন্দন। মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ, সাদমান ইসলাম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ, কাজী নূরুল হাসান সোহান ও ইয়াসির আলী রাব্বি- ১৬ জন একসঙ্গেই ‘স্কিল ট্রেনিংয়ে’ অংশ নিলেন। অনেকদিন পর মিলেমিশে সবাই একসাথে হোম অব ক্রিকেটে ভিনদেশী কোচিং স্টাফদের সাথে অনুশীলন করতে পেরে খুশি।

অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও তৃপ্ত। অনুশীলন শেষে ভিডিও বার্তায় সে কথারই প্রতিধ্বনি। ‘আলহামদুলিল্লাহ অনেকদিন পর আমরা আজ মিরপুরে দলবদ্ধ অনুশীলন করলাম। এখন সতীর্থদের সাথে কাজ করছি, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা হচ্ছে। সতীর্থরাও বেশ উৎফুল্ল এবং আমিও।’

রিয়াদের অনুভব ও উপলব্ধি ক্রিকেট দলীয় খেলা। মাঠে সবাই মিলে একটি দল হয়েই খেলতে হয়। অনুশীলনটাও সবাই মিলে মিশে করায় আছে অন্যরকম পরিতৃপ্তি। তাইতো মুখে এমন কথা, কারণ দিনশেষে এটা একটা দলীয় খেলা, দলের সবার সাথে মিলে অনুশীলনটা যদি উপভোগ করা যায় ওটা আরও বেশি কার্যকর হয় নিজের জন্য ও সতীর্থদের জন্য। ভালো লাগছে। ’

তার অকপট স্বীকারোক্তি, ‘লকডাউনের সময়টা খুবই কঠিন ছিল, কারণ দল থেকে দূরে, অনুশীলন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। কিন্তু যতটুকু বাসায় করতে পেরেছি, রানিং বা জিমের কাজগুলো। তবে স্কিলের কাজগুলো করতে পারছিলাম না। এখন এই জিনিসগুলো শুরু করেছি অনেকদিন হল। ব্যক্তিগত অনুশীলন হয়েছে এখন আমরা দলবদ্ধ অনুশীলন শুরু করেছি। এখন এটা ভালো।’

রিয়াদ জানালেন লকডাউনের সময়টাতে তার একটা জিনিসই উপকার হয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার ফিটনেসটা চেষ্টা করেছি যেন আরও ভালো করা যায়। ট্রেডমিলে অনেক সময় ব্যয় করেছি। ফিজিও ও ট্রেনারের গাইডলাইন ছিল, সপ্তাহ বা ৩-৪ দিন পর পর কথা হত কী কী কাজ করা যায়, জিমের প্রোগ্রামগুলো দেওয়া হয়েছে। ওই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করেছি, ব্যান্ডের কাজগুলো করা হয়েছে। ওগুলো করে বেশ ভালো ফল পেয়েছি।’

আজ রোববার থেকে শুরু হওয়া স্কিল ট্রেনিংকে খুব গুরুত্বপূর্ন ও উপকারি বলে মনে হয় রিয়াদের, ‘এখন শুধু স্কিলের কাজগুলো করছি। কারণ দিনশেষে স্কিলটাও গুত্বপূর্ণ। ফিটনেস ও স্কিল দুটো মিলিয়েই ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।’

এআরবি/আইএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]