ছন্নছাড়া ব্যাটিং ঢাকার, ফাইনালে যেতে চট্টগ্রামের লক্ষ্য ১১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল জেমকন খুলনা, জিতেছিল ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে। সেই ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই হয়তো দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঢাকা।

কিন্তু খুলনার মতো পারেনি তারা, হতাশ করেছেন ব্যাটসম্যানরা। যে কারণে পুরো ২০ ওভার খেললেও মাত্র ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে গেছে ঢাকা। ফাইনালের টিকিট পেতে চট্টগ্রামের প্রয়োজন মাত্র ১১৭ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের বোলিং পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে বাঁহাতি নাঈম শেখের বদলে চমক হিসেবে মুক্তার আলিকে ওপেনিংয়ে নামায় ঢাকা। তবে তাদের এই চমক কাজে লাগেনি।

দলের রান মাত্র ১৯ হতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন দুই ওপেনার। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে সাব্বিরকে (১১ বলে ১১) সাজঘরে ফেরান শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারের প্রথম বলে নাহিদুলের বলে আউট হন ৭ বলে ৭ রান করা মুক্তার।

তিন নম্বরে নেমে শুরু থেকেই রানের জন্য হাপিত্যেশ করতে থাকেন নাঈম। মোস্তাফিজুর রহমানকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে প্রাথমিক চাপটা সরান, কিন্তু ডট বল খেলতে থাকেন একের পর এক। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানকে ছক্কা মারার চেষ্টায় ডিপ মিড-উইকেটে ধরা পড়েন নাঈম, দুর্দান্ত ক্যাচ নেন নাদীফ চৌধুরী। আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ১২ রান করেন নাঈম। ইনিংসের ৮.২ ওভারে দলীয় ৫০ পূরণ হয় ঢাকার।

নাঈমের মতো অবস্থা হয় অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমেরও। একদিকে শেষ হচ্ছিল ওভার, সে তুলনায় বোর্ডে উঠছিল না রান। রানের গতি বাড়ানোর তাগিদে মোসাদ্দেক সৈকতের ওভারে স্লগ সুইপ খেলেন মুশফিক, কিন্তু সীমানাছাড়া হয়নি। ডিপ স্কয়ার লেগে ফ্রন্ট ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ ধরেন রাকিবুল, শেষ হয় মুশফিকের ৩১ বলে ২৫ রানের ইনিংস।

মুশফিক-নাঈমের তুলনায় শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন ফর্মে থাকা ইয়াসির আলি রাব্বি। একটি করে চার ও ছয়ের মারে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হননি পুরোপুরি, ইনিংসের ১৬তম ওভারের প্রথম বলে তাকে ফেরান মোস্তাফিজ। ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৪ রান। আগের ম্যাচগুলোতে ঝড়ো ক্যামিও উপহার দিলেও, আজ ৩ বলে ২ রান করে আউট হয়েছেন আকবর।

শেষদিকে চেষ্টা করেছিলেন আলআমিন জুনিয়র। মোসাদ্দেককে ছক্কা, মোস্তাফিজকে চার ও ছয় মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীই করছিলেন তিনি। তাকে থামান মোস্তাফিজ।

দারুণ এক কাটারে সোজা বোল্ড হন ১৮ বলে ২৫ রান করা আলআমিন। পরের বলে নাসুম আহমেদের মিডল স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মোস্তাফিজ। হ্যাটট্রিক বলে রুবেল হোসেনের আউটসাইড এজ হলেও সেকেন্ড স্লিপ দিয়ে চলে যায় বল, বঞ্চিত হন মোস্তাফিজ। শেষপর্যন্ত ঢাকার ইনিংস থামে ১১৬ রানে।

নিজের ৪ ওভারে ৩২ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। চলতি আসরে সবমিলিয়ে ২১ উইকেট হলো তার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুক্তারের চেয়ে ৫ উইকেট বেশি তার। এছাড়া শরিফুল ২, রাকিবুল, মোসাদ্দেক, সৌম্য ও নাহিদুল নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এসএএস/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]