ঘরোয়া ক্রিকেটকে গোনায়ই ধরেন না সাকিব!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

এক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরাটা মোটেই ভালো ছিল না। মানে সাকিব আল হাসানের নামের সঙ্গে জুতসই হয়নি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ৯ ম্যাচে করেছিলেন মোটে ১১০ রান। বল হাতে নেন ৬ উইকেট।

এরপর ফাইনাল না খেলে অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র ছুটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ১৪ জানুয়ারি নিজেদের মধ্যে প্রথম অনুশীলন ম্যাচেও ২৩ বলে মাত্র ৯ রান করে রানআউট হন সাকিব। তবে ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৮২ বলে ৫২ রান করেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ছন্দে ফেরার।

অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিললো সেই চিরচেনা সাকিবের। ব্যাট হাতে ১৯ রানে ফিরলেও বোলার সাকিব ছিলেন দুর্দান্ত। তার স্পিন ভেলকিতে দিশেহারা উইন্ডিজ উইলোবাজরা।

৮ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ১২২ রানে বেঁধে ফেলতে সাকিবই রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। ঐ বোলিং স্পেলটি তাকে এনে দিয়েছে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও।

একটা প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাওয়া স্বাভাবিক। ঘরোয়া ক্রিকেট আর নিজেদের মাঝে খেলায় সাকিব জ্বলে উঠতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঠিকই রাজকীয় বেশে ফেরেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এর পেছনের রহস্য কী?

সাকিব কি তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগী? ঘরোয়া ক্রিকেট কি তাকে সেভাবে টানে না? এমন প্রশ্নে সাকিবের সোজাসাপট জবাব, ঘরোয়া ক্রিকেট তাকে আসলেই সেভাবে টানে না।

এটুকু বলেই থামেননি। ঘরোয়া ক্রিকেট তিনি গোনার ভেতরেই আনেন না-এমন কথা বলতেও ছাড়েননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ম্যাচশেষে তিনি সরল ভাষায় বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট আমার কাছে গোনার বিষয় নয়। অন্ততপক্ষে আমার কাছে নয়। আপনারা করলে করতে পারেন। মনে হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মেটার করে না। আমার কাছে মেটার করে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাটা, সেখানে কিভাবে কি করি। সেদিক থেকে আমি খুশি। তবে ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে আরো ভালো লাগত।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ দলটিকে আর সবাই খুব দুর্বল মনে করলেও সাকিব তা মনে করেন না। তার ধারণা, ক্যারিবীয়দের এ দলটিও হেলাফেলার না। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সাকিবের মূল্যায়ন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি। ওরা ম্যাচ খেলে এসেছে।’

সাকিব বরং মনে করেন, মূল দলের খেলোয়াড়রা ভালো করতে পারছে না বলেই এই দলটিকে পাঠিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাকি বলেন, ‘হ্যাঁ, ওদের ৬-৭ জন মূল খেলোয়াড় নেই। ওদের (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) মূল দল যেটা, আমরা সেটাকে বিশ্বকাপে হারিয়ে এসেছি। আবার ওদের দেশে গিয়ে হারিয়েছি। ওদের সেরা টিমটা ভালো করতে পারছে না বলেই হয়তো এই টিম পাঠিয়ে দিয়েছে। যেন বেটার রেজাল্ট করতে পারে।’

তবে নিজ দলকে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রাখতে চান সাকিব। তার অনুভব, অভিজ্ঞতার কারণে তুলনামূলক ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। যদিও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, ‘তার মানে এই না যে আমরা সামনের দুই ম্যাচ আরামে জিতে যাব। আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]