ভারত-পাকিস্তানের স্ট্যাম্প নিশানার খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১

প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কত কিছুই না প্রথম দেখেছিল বিশ্ব। প্রথম চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানার-আপ, ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরি, যুবরাজের ছয় ছক্কা, টাই ম্যাচসহ আরও কত কী! তন্মধ্যে অবশ্যই বাড়তি রঙ ছড়িয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বের টাই হওয়া ম্যাচটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম টাই, তাও আবার ভারত-পাকিস্তানের! এরপর সুপার ওভারে যা হলো, তা তো পেয়ে গেছে অমরত্ব। কেননা বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি যে ঘটেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে, সুপার ওভারে এখনকার মতো এক ওভার করে দুই দলের খেলার নিয়ম ছিল না। ২০০৬ সালে আইসিসি ম্যাচ টাই হলে পাঁচবার করে স্টাম্প সইয়ের মজার এক নিয়ম তৈরি করেছিল। বল-আউট নামক স্টাম্প নিশানার সেই খেলা ওই বছরই নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে প্রথম দেখে বিশ্ব। দ্বিতীয় ও শেষটি ভারত-পাকিস্তান মহারণে। তবে খেলাটা আসলেই কতটা মজাদার ছিল, ম্যাচ টাই হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটারদের হাসি-ঠাট্টাই বলে দিচ্ছিল তা।

সুপার ওভার নামক স্টাম্প সইয়ের খেলায় ভারত জেতে ৩-০ ব্যবধানে। তিন ভারতীয় বোলার স্টাম্প বল লাগাতে পারলেও, তিন চেষ্টায় একবারও সফল হতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে দুই পয়েন্ট ঢোকে ভারতীয় শিবিরে। নিজে বল হাতে বল-আউটে অংশ না নিলেও, সুপার ওভারেও এমএস ধোনি প্রমাণ করেছিলেন অধিনায়ক কেন তিনি সেরাদের সেরা।

Super Over

পাকিস্তান যেখানে দুই পেসার ইয়াসির আরাফাত, উমর গুল এবং দ্রুত গতির স্পিনার শহিদ আফ্রিদিকে দিয়ে বোলিং করায়, সেখানে ধোনি প্রথম তিন বোলার হিসেবে ব্যবহার করেন স্পিনারদের। একে তো স্পিনাররা অল্প রান আপে বল করে, তাতে নো বল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর স্টাম্প নিশানা করা খুব সহজ। কাজটাকে আরও সহজ করে তুলেছিলেন ধোনি নিজেই। একদম স্টাম্প বরাবর কিপিং গ্লাভস হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। যাতে তাকে লক্ষ্য করে বল ছুঁড়লেই যেন তা স্টাম্পে লাগে।

ধোনির সেই ফাটকা আসলেই কাজে দেয়। একে একে বীরেন্দর শেবাগ, হরভজন সিং এবং পার্ট-টাইম স্পিনার রবিন উথাপ্পা ধোনিকে নিশানা করে স্টাম্পের বেল ওড়ান। অন্যদিকে, পেসারদের দেখে স্টাম্প থেকে বেশ কয়েকগজ দূরে দাঁড়িয়েছিলেন পাক কিপার কামরান আকমল। পেসাররা সাধারণত লম্বা রান আপে বল করে। তবে নো-বলের ধক্কি এড়াতে ছোট রান আপে বল করে কার্যত নিজেদের দুর্দশাই ডেকে আনেন আরাফাত-গুলরা।

বল-আউট নামক সুপার ওভারের সেই নাটকের আগে মূল ম্যাচ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল বেশ। আগে ব্যাটিং করা ভারত শুরুতেই খায় ধাক্কা। এরপর কোনো রকমে ১৪১ রানের একটা পুঁজি পায় দলটি। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল আবার দারুণ। তবে শেষের দিকে ভারতীয় বোলারদের অনবদ্য বোলিংয়ে ভারতের সমান ঠিক ১৪১ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

এসএস/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।