ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জয়ের চিন্তাই করেননি আফিফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২

আফিফ হোসেন ধ্রুবর পুল শটে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়। জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ছিল ৮ বলে ১ রান, তখন গুলবাদিন নাইবের বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন আফিফ। তবে রোমাঞ্চকর এ জয়ের পরও খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি আফিফ।

বরং স্বস্তিই বেশি দেখা গেলো তার চোখে-মুখে। ভাবটা যেনো এমন ছিলো যে, আমার যা কাজ ছিল তা শেষ করেছি, এতেই আমি খুশি। দলকে নিরাপদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পথে আফিফের ব্যাট থেকে এসেছে ১১৫ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস।

এই ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পথে একদম শেষ চারের আগপর্যন্ত জয়ের কথাই ভাবেননি আফিফ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘৬ উইকেট পড়ার পর শুধু একটা লক্ষ্য ছিল উইকেট দেবো না। এই লক্ষ্যেই ব্যাটিং করছিলাম যে উইকেট না দিয়ে যতক্ষণ কাটানো যায়।’

দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেওয়ার পথে সপ্তম উইকেটে মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে রেকর্ড ১৭৪ রানের জুটি গড়েছেন আফিফ। এ জুটির পুরোটা সময় জেতার ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি তারা, ‘আমরা ম্যাচ জেতানোর ব্যাপারে কোনো কথা বলিনি। আমাদের কথা ওটাই ছিল যে আমরা উইকেট দেবো না, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো।’

রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমানদের মতো স্পিনারদের সামলে দুই পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই ও ফজল হক ফারুকিকেই বেশি আক্রমণ করেছেন আফিফ ও মিরাজ। এ বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আফিফ বলেন, ‘নির্দিষ্ট বোলারদের লক্ষ্য বলতে ওদের যে ৩ জন স্পিনার ছিল তাদের বিপক্ষে পরিকল্পনা ছিল স্বাভাবিক খেলা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এদের ওভার শেষ হলে ৫ ওভার বাকি থাকতো। ওখানে একটা প্ল্যান, শেষের দিকে আর কি যখন খেলা অনেক দূর চলে গেছে, শেষ ৫ ওভারে যদি ৩০-৪০ বা ৫০ও লাগে আমরা চেষ্টা করবো। আমরা যেন শেষ করতে পারি। ওদের স্পিনারদের উইকেট না দিয়ে ব্যাটিং করার পরিকল্পনা ছিল।’

ড্রেসিংরুম থেকে দলের পক্ষ থেকে কী বার্তা দেওয়া হয়েছিল জিজ্ঞেস করা হলে আফিফ বলেন, ‘ড্রেসিংরুম থেকে একটা বার্তাই ছিল যে আমরা যেভাবে যাচ্ছিলাম সেভাবেই যেনো যাই। উইকেট না দিয়ে, উইকেট যেনো হাতে রাখি। আমরা দুজন যদি উইকেটে থাকি ম্যাচটা জেতা সম্ভব।’

দেশকে জেতানোর গর্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য ভালো খেলাটা সবসময় গর্বের ব্যাপার। চেষ্টা থাকে সবসময় ভালো করার। কোনো সময় হয়, কোনো সময় হয় না। আজকে যেহেতু বড় একটা সুযোগ ছিল, এরকম বড় সুযোগ পাওয়া যায় না। বড় সুযোগ পেয়েছি এটা কাজে লাগাতে চেয়েছি।’

আফিফের ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের পাশাপাশি জয়ের বড় অবদান ছিল মিরাজের ব্যাটিংয়েরও। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস মিরাজ করেছেন ৮১ রান। দেখেশুনে পুরোদস্তুর ব্যাটারের মতো নিজের ইনিংস তৈরি করেছেন এ অফস্পিনিং অলরাউন্ডার।

অগ্রজ সতীর্থের প্রশংসা করে আফিফ বলেন, ‘মিরাজ ভাই অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। ও পাশ থেকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। যখন বাউন্ডারি দরকার ছিল, অনেকগুলো ডট হয়ে গেছে তখন বাউন্ডারি এসেছে। এছাড়া সবমিলিয়ে দুজনের কথা অনেক ভালো হচ্ছিল। দুজনই বুঝতে পারছিলাম উইকেট না দিলে সম্ভব ম্যাচটা জেতা।’

এসএএস/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]