বিশ্বকাপ নিয়ে তারকা ফুটবলারদের শৈশবের স্মৃতি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২৮ মে ২০১৮

রাশিয়া বিশ্বকাপ মাতাতে প্রস্তুত ফুটবলের বড় বড় সব তারকারা। নিজের দেশের হয়ে মনে রাখার মতো কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই রাশিয়া যাচ্ছেন তারা। কিন্তু এই স্বপ্নের শুরু হয়েছিল কোথায়? কীভাবেই বা তারা এ স্বপ্ন দেখেছিল?

সেজন্য আমাদের চলে যেতে হবে তাদের শৈশবে। শৈশবে টিভিতে বিশ্বকাপে নিজ দেশের খেলা দেখেই তারা নিজেদের স্বপ্নের শুরু করেছিল। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি নিয়ে তাই নেইমার, হেসুস, মদ্রিচ, থিয়াগো, সন, কেনদের মতো তারকারা ফিফা ডট কমের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। চলুন ঘুরে আসা যাক তাদের স্মৃতির পাতা থেকে।

লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া মিডফিল্ডার)
‘ফ্রান্স বিশ্বকাপের (১৯৯৮) সময় আমার বয়স ছিল ১৩ এবং বিশ্বকাপটা দেখেছি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে। প্রতিটা জয়ের পর আমরা শুধু খুশি আর খুশি হয়েছি। একই সময়ে এটা ক্রোয়েশিয়ার জন্য দারুণ এক বিজ্ঞাপন ছিল। পৃথিবী শেষ পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। আমার মনে আছে আমি এখানে পৌঁছানোর জন্য তখন থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করি। এটা দুর্দান্ত ছিল।’

থিয়াগো আলকানতারা (স্পেন মিডফিল্ডার)
‘আমার প্রথম স্মৃতি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যখন আমার বাবা (ব্রাজিলের ম্যাজিনহো) সেটা জিতেছিল। আমার বয়স তখন কেবল তিন। যদিও আমার ম্যাচগুলো মনে নেই কিন্তু তার বাড়ি আসা, উৎযাপন, পরিবারের সবার সেখানে থাকার ব্যাপারে আমার এখনো মনে আছে। আমি এটা পরিষ্কারভাবেই মনে করতে পারি। আমি ২০১০ সালের স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে আন্দ্রেসের গোলটির কোথাও মনে করতে পারি। এটা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তখন আমরা অনূর্ধ্ব -১৯ দলে ছিলাম। যখন আন্দ্রেস গোল করে, তখন পরিস্থিতি উন্মত্ত হয়ে পড়েছিল। টিভির অবস্থান হয় শেষ পর্যন্ত ফ্লোরের ওপর।’

গ্যাব্রিয়েল হেসুস (ব্রাজিল স্ট্রাইকার)
‘শেষ তিন বিশ্বকাপের আগে আমি টুর্নামেন্টটা উৎযাপন করতে রাস্তা রঙ করেছি। এটা প্রায় একটা বাধ্যবাধকতা আমাদের জন্য। আশা করি আমি রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলে আমার শৈশোবের সমস্ত আনন্দের ঋণ শোধ করতে পারবো।’

রাদামেল ফ্যালকাও (কলম্বিয়া স্ট্রাইকার)
‘আমার সবচেয়ে পুরনো বিশ্বকাপ স্মৃতি? ইতালিতে ১৯৯০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ফ্রেডি রিংকনের গোল। আমার বয়স তখন চার বছর হবে। কলম্বিয়ার সবাই সেটা উদযাপন করেছিল। তাই আমারো এর জ্বলজ্বলে একটি স্মৃতি রয়েছে। আসলে আমি মনে করি, আমি আরো পরিষ্কারভাবে সেই মুহূর্তটার কথা মনে করতে পারি যখন গোলটা হয়েছিল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ আসেনি। তাই আমরা সেই গোলটি বারবার দেখতে দেখতেই বড় হয়েছি।’

হাভিয়ের হার্নান্দেজ (মেক্সিকো স্ট্রাইকার)
‘প্রথম বিশ্বকাপ যেটা আমার মনে পড়ে সেটা হচ্ছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ। আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ রোনালদো সেখানে খেলছিল। ম্যাচের সময়সূচিগুলোর জন্য কখনো কখনো আমাকে দ্রুত স্কুল শেষ করতে হতো এবং বাসায় দৌড়ে আসতে হতো ম্যাচগুলো দেখার জন্য।’

হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার)
‘আমার ২০০২ বিশ্বকাপ এবং রোনালদিনহোর টপ কর্ণারে দেয়া ফ্রি কিক গোলটার কথা মনে আছে। এটা এখনো আমাকে কষ্ট দেয়। সেটাই আমার বিশ্বকাপের প্রথম স্মৃতি। তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং একটা বিশ্বকাপে খেলার।’

ইয়ুলিয়ান ড্রাক্সলার (জার্মানি মিডফিল্ডার)
‘প্রথম বিশ্বকাপ যেটা আমার মনে পড়ে সেটা হচ্ছে ২০০৬। সম্ভবত ২০০২ এ আমি অনেক ছোট ছিলাম কিন্তু ২০০৬ এ এটা জার্মানিতে হয়েছিল এবং আমি ও আমার পরিবার এর পুরোটাই দেখেছি। সেই জার্মান দল পুরো দেশকেই আনন্দিত করেছিল। তাই তাদের প্রত্যেকের খেলা ছিল আসল আনন্দ।’

থিয়েরি অঁরি (বেলজিয়াম সহকারী কোচ এবং ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী)
‘বিশ্বকাপে আমার প্রথম স্মৃতি হচ্ছে ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে মারিউস ট্রেসরের করা গোলটা। আমি মনে করতে পারি তখন বাসার সবাই লাফাচ্ছিল এবং সবকিছু ভাঙছিল। আমার বয়স তখন পাঁচ বছর এবং সত্যি কথা বলতে আমি ভেবেছিলাম বাড়িটা বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে।’

ইগর আকিনফিভ (রাশিয়া গোলরক্ষক)
‘আমার ১৯৯৪ সালের ইউএসএ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে। এটা একটা মনোমুগ্ধকর অনুভূতি ছিল। সেটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যখন আমি ফুটবল বুঝতে শিখি। আমার সেরা স্মৃতি হচ্ছে ক্যামেরুনের সাথে রাশিয়ার ৬-১ গোলের জয় যেখানে ওলেগ সালেংকো পাঁচ গোল করেছিল।’

সন হিউং মিন (দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড)
‘আমার ২০০২ বিশ্বকাপের অনেক ভালো স্মৃতি রয়েছে। আমি কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষের পেনাল্টি শুট আউটটা মনে করতে পারি। সবাই পাগল হয়ে গিয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ২০০২ সালে আমিসহ সবাই লাল শার্ট পরেছিলাম। আমি ২০০২ বিশ্বকাপ থেকে নির্দিষ্ট কোন মুহূর্ত পছন্দ করতে পারবো না। ২০০২ বিশ্বকাপের প্রতিটা মুহূর্তই ছিল অসাধারণ।’

নেইমার (ব্রাজিল ফরোয়ার্ড)
‘আমার প্রথম স্মৃতি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের। যদিও আমার বয়স দুই ছিল আমি মনে করি আমার প্রথম স্মৃতি হল্যান্ডের বিপক্ষে রোমারিওর গোলটা। আমার মনে আছে বেবেতোর সেই ক্রস আর তার সেই গোল।’

পল পগবা (ফ্রান্স মিডফিল্ডার)
‘আমার ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের সেই ৩-০ গোলের জয়ের কথা মনে আছে। আমি তখন খুবই ছোট ছিলাম। আমার বয়স সম্ভবত ছয় কিংবা সাত ছিল। আর আমি বাসায় সবার সাথে ম্যাচটা দেখেছিলাম। ফ্রান্স জেতার সাথে সাথে আমরা সবাই বাইরে চলে যাই এবং গাড়ির ওপর উঠে যাই। সেখানে হর্ণের শব্দ ছিলো এবং আমরা সবাই খুশি ছিলাম।’

ডিকেটি/আরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]