সমুদ্রে ভেসে গেল লাল-সবুজ উৎসব

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা কক্সবাজার থেকে
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৮

গ্যালারিতে গাদাগাদি করে দর্শক ছিল হাজার পনেরো। স্টেডিয়ামের বাইরে আরো হাজার সাতেক। বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল ঘিরে কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে লাল-সবুজের উৎসব শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা ছিল সমুদ্রপাড়েরর শহর কক্সবাজারেও। সিলেট জামাল ভুঁইয়াদের সেমিফাইনালে তুলতে পারলেও কক্সবাজার পারেনি তাদের ফাইনালে নিতে।

গত কয়েক দিনের যে উৎসব ছিল ফুটবল ঘিরে, জেমি ডে’র শিষ্যদের বিদায়ে তা থামলো কক্সবাজারে। সমুদ্রের ঢেউয়েই যেন ভেসে গেলো লাল-সবুজের সব উৎসব। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফাইনালে এখন দর্শক স্বাগতিকরা। সেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই অতিথি দল ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান।

কক্সবাজারের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ জিতবে। সে প্রত্যাশা আরো বেড়েছিল মাঠে জামাল ভুঁইয়াদের পারফরম্যান্স দেখে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ছেলেরা সমানতালে লড়লেন অসম শক্তির বিরুদ্ধে। শারীরিক গঠনে ফিলিস্তিনের খেলোয়াড়রা যদি হন গালিভার, তাহলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা লিটিপুট। শক্তি-সামথ্যেও তাই। এমন একটি দলের সঙ্গে ৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাকি সময় যেভাবে লড়েছে বাংলাদেশ তা প্রশংসার দাবি রাখে। শুধু একজন ভালো মানের স্ট্রাইকার না থাকায় ফুটবলের ফুল ফুটিয়েও জিততে পারলো না বাংলাদেশ।

মাঠে দুই দলের যে পার্থক্য, তা মোটেও চোখে পড়েনি। জিততে না পারলেও বাংলাদেশ মন ভরিয়ে দিয়েছে দর্শকদের। দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়া উপক্ষো করে যারা ছাতার নিচে মাথা গুজে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছে তাদের হারে দু:খ পেলেও দলের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যখন গ্যালারির সামনে গেলেন তখন সব দর্শক দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাদের অভিবাদন জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের দর্শকরা জাতীয় পতাকা, বাদ্যযন্ত্র আর খেলোয়াড়দের ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন গ্যালারিতে। বৃষ্টিতে ভিজে পুরো সময়ই তারা গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিয়েছেন দলকে। একটা গোলের জন্য অধির আগ্রহে থেকেও দেখতে পাননি তারা। ফুটবলে গোলটাই যে আসল তা প্রমাণ হলো আরেকবার।

আরআই/আইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।