একশ পরিবারে হাজারটা সুখ অধিনায়ক সাবিনার

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ২৩ মে ২০২০

একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারার মধ্যে যে আনন্দ সেটা ভাষার বেড়াজালে আটকানোর সাধ্য নেই। সেই হাসিটা যদি একজনের পরিবর্তে ছড়িয়ে পড়ে অনেক পরিবারের সদস্যদের মুখে তাহলে তো কথাই নেই।

এমন এক সুখ অনুভব করছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ কিছু পরিবারকে ঈদ উপহার দিতে পেরে যে সুখ সাবিনার মনে, সেটা তিনি প্রকাশ করেছেন নিজের মতো করে।

তার পরিকল্পনা ছিল একা করার। যতটুকু পারবেন গরীবদের সহায়তা করবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বদলে একটু বড় পরিসরে গেলেন।

‘প্রথমে আমার প্ল্যান ছিল নিজে নিজে যে কয়টা অসহায় পরিবারকে সহায়তা করা যায় করব। পরে পরিকল্পনা বদলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিলাম। যোগাযোগ করলাম সবার সঙ্গে, ইচ্ছে ছিল অনেকের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সবাই সম্পৃক্ত হতে পারেনি। কয়েকজন বেশ ভালোভাবেই আমার উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছে। তারপর আমি ১০০ পরিবারকে ঈদ উপহার দিয়েছি। একশ পরিবারকে কিছু সহায়তা করেছি এটা আমার কাছে হাজারটা সুখের সমান’- সাতক্ষীরা থেকে বলছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার এই গোলমেশিন।

এই উদ্যোগে যারা শামিল হয়েছেন তাদের কয়েকজনের নাম বলে কৃতজ্ঞতাটা প্রকাশ করতেও ভোলেননি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা সাবিনা, ‘তামান্না, মেহজাবিন, পিউ, জ্যোতি চোহান, সারোয়ার মাহিন, মৌসুমী, নাজমুল হোসাইন অতুল, সুরভী আক্তার ইতি, মাইনু মারমারা আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার সঙ্গী। এমন কি আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বন্ধু নূর কবির ডায়মন্ডও আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল।’

এর আগেও করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ কিছু মানুষকে সহায়তা করেছিলেন সাবিনা। তখন করেছিলেন এককভাবে। এবার বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে। সবাইকে নিয়ে কিছু করার মধ্যে বেশি আনন্দ দেখছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক, ‘নিজে একা একা দিতে পারতাম। কিন্তু সবাইকে নিয়ে কাজ করার মধ্যে একটা ভালো লাগাও থাকে। আমি সবাইকে বিষয়টা বলেছি। সবার আন্তরিকতা ছিল, সবাই কিছু কিছু সাহায্য করেছি। আসলে সবার আন্তরিকতার জন্যই সম্ভব হয়েছে।’

মহান লক্ষ্য বাস্তবে রূপ দেয়ায় যারা সাবিনার সঙ্গে ছিলেন তাদের ছবি সাজিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ছবিটা শুধু একটা ছবি না, এক টুকরো সুখ, ভালবাসা। আমি ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না তোমাদেরকে। দ্বিতীয়বারের মত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি এবং তোমাদের সহযোগিতা চাওয়া মাত্র পেয়েছি। আমার কাছে এটাই ভালবাসা, এটাই মানবিকতা। ভাল থাকুক সবাই, এবারের ঈদে আমাদের তরফ থেকে মানুষের জন্যে সামান্য উপহার। সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ, ১০০ পরিবার হাজারটা সুখ।’

আরআই/এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]