‘আমাদের কামব্যাক করার কোন রাস্তাই খোলা নেই’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:১৬ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

তিনি টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরিয়ান। টেস্টের ইতিহাসেও সর্বকনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ান। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সব সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তাকে ধরা হয় এক নম্বর ন্যাচারাল ট্যালেন্ট। দেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার সম্মুখযোদ্ধা মোহাম্মদ আশরাফুল।

দেশের ক্রিকেট এখন কোথায়? ২১ বছর পরও আতুঁড় ঘরে পড়ে থাকা বাংলাদেশের টেস্টের ভবিষ্যত কী? দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কী প্রায় দেড়যুগেও কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌছেছে? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কী ঠিক পথে এগুচ্ছে? এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো নিয়ে কী টেস্টে ভাল দল হওয়া সম্ভব? দেশের উইকেট গুলোর বর্তমান হাল হকিকত কী?

আজ মঙ্গলবার জাগো নিউজের সাথে আলাপে ওসব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আসুন শুনি দেশের ক্রিকেট নিয়ে আশরাফুলের বলা কথাবার্তা গুলো...।

জাগো নিউজ : ২১ বছরে টেস্ট ক্রিকেটে আমরা কতটা এগিয়েছি?

আশরাফুল : ২১ বছরে আমরা টেস্ট খেলেছি ১১৫টার মত। অনেকগুলো ম্যাচ। ২১ বছরে নেহায়েত কম নয় সংখ্যাটা। বছরে গড় পড়তা ৫ থেকে ৬টি টেস্ট।

একটা নতুন টেস্ট প্লেয়িং নেশনের জন্য কিন্তু কম নয়। সবাই দেখে আমরা ১১৫ টেস্ট খেলে ফেলেছি; কিন্তু সেটা কিভাবে? গড়পড়তা বছরপিছু যতই প্রায় ৬টা টেস্ট মনে হোক না কেন, এর মধ্যে কিন্তু একটা বড় ফাঁক-ফোকর আছে। অনেকেই হয়ত মাথায়ই আনিনি যে আমরা মাঝে মধ্যেই ৭-৮ মাস, এক বছর এমনকি ১৪-১৫ মাস বিরতি দিয়েও টেস্ট খেলেছি।

আপনি যত কথাই বলেন না কেন এটা হলো একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। আপনি এক বছরে ৫ থেকে ৭টি টেস্ট খেললেন, জিতলেন না, হারলেন। বড় ব্যাপার না। পরের বছর গিয়ে আর খেললেনই না, কিংবা একটি বা দুটি ম্যাচ খেললেন, তাহলে কিন্তু ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম ঘটলো। পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও তখন কঠিন হয়ে পড়ে।

Ashraful

আপনি খেয়াল করে দেখেন আমাদের বেশ ক’টি বছর গেছে যেখানে আমরা ৭-৮টি টেস্ট খেলেছি। আবার কিছু কিছু বছর আছে নাম মাত্র ১-২টি ম্যাচ খেলেছি। তাতেই ঘটেছে ছন্দপতন। সেটাই পারফরমেন্স ভাল করার পথে হয়েছে বড় বাঁধা।

এক সিরিজের পর আরেক সিরিজ বা টেস্টের মাঝে যদি এক বছর বা ৭-৮ মাস গ্যাপ থাকে, তাহলে আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়। সেটা ক্রিকেটারদের ভালো খেলার পথে বড় অন্তরায়। আমাদের সেটাই হয়েছে। আমরা কখনো কখনো এক বছরে ৬ থেকে ৮টি টেস্ট খেলেছি আবার কোনো কোনো বছর বা তার পরের বছরই দেখা গেছে ৮-৯ মাস কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় পর আবার টেস্ট খেলেছি। সেটাই মাইনাস পয়েন্ট। তাতে পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ও মাইন্ডসেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তখন আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়।

ভুলে গেলে চলবে না আমরা যখন টেস্ট খেলতে শুরু করেছিলাম, তখন আমাদের ক্রিকেট ছিল ওয়ানডে কেন্দ্রিক। আমরা শুধু ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট মানে ৫০ ওভার এর লিগ, টুর্নামেন্টই খেলতাম। তা নিয়েই ছিল রাজ্যের উৎসাহ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয়েছে আসলে টেস্ট স্ট্যটাস পাবার বছর খানেক আগে।

আর শুরুর দিকে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও ততটা সুবিন্যস্ত ছিল না। ওই সময় আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মানও ততটা ভাল ছিল না। কাজেই ব্যাকআপও ছিল না তেমন।

২০১১’র বিশ্বকাপের আগে বলা হলো আমরা শুধু ওয়ানডে খেলবো, কারণ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। একই চিত্র চোখে পড়েছে ২০১৫-তেও। সেবারও আমরা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে টেস্ট খেলেছি দীর্ঘ বিরতি দিয়ে। সেগুলো টেস্টে ভাল করার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাগো নিউজ : অনেকের মতই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান ভাল না বলেই টেস্টে কাঙ্খিত উন্নতি হয়নি। আপনি কী তা সমর্থন করেন?

আশরাফুল : এটা সেই ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত হলে বলতাম হ্যাঁ ঠিক আছে। আমি একমত। তবে এখন আর তা বলবো না। আসলে বলা বোধকরি ঠিক হবে না। কারণ শেষ ৫-৬ বছরে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের চেহারা পাল্টেছে অনেক।

এখন যেটা হয়, সেটা যে ভারতের রঞ্জি ট্রফি, অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ড কিংবা ইংলিশ কাউন্টি- তা বলবো না। তবে আগের চেয়ে মান বেড়েছে। খেলাও ভাল হচ্ছে। সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে। উইকেটও মন্দ নয়। ভালই। সব মিলে আমাদের জাতীয় লিগ আর বিসিএল এখন একটা মোটামুটি রূপ নিয়েছে। তাই এখন আর টেস্টে ভাল না করার পিছনে ঢালাও দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।

অনেকেই বলেন শুনি, আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান ভাল না, খারাপ। আমি মানতে রাজি নই। যেহেতু আমি নিজে এখনো খেলি। আমার তো মনে হয় আগের চেয়ে খেলার মান বেড়েছে।

Ashraful

আমি দুটি পরিসংখ্যান দিচ্ছি, আমাদের টেস্টের নাম্বার ওয়ান ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক এবার শ্রীলঙ্কা যাবার আগে দুটি ম্যাচে ৪ ইনিংস ব্যাট করেছেন। একটি ফিফটিও নেই। যদি মান খুব খারাপ থাকতো, প্রতিপক্ষ বোলিং থাকতো কমজোরি ও সাদামাটা, তাহলে মুমিনুল তো অন্তত দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলতো।

আমাদের হাই পারফরমেন্স ইউনিটের বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির আইরিশ যুব দলের সাথে এক ম্যাচে ১৩ উইকেট পেয়েছে, অথচ জাতীয় লিগে কিছুই করতে পারেনি। দুই ম্যাচে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে মোটে ৩ উইকেট। খেলার মান খারাপ হলে কিন্তু এমন হতো না। মান অবশ্যই বেড়েছে। আর এখন খেলাও হচ্ছে ভাল উইকেটে।

জাগো নিউজ : তারপরও আপনি কী মনে করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রতি বোর্ডের দৃষ্টি, যত্ম আর ব্যবস্থাপনা আপ টু দ্য মার্ক?

আশরাফুল : নাহ! এখনো নয়। আমরা জাতীয় দলের জন্য যতটা সিরিয়াস, কোচিংস্টাফ আনাই, তাদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ উন্নয়নে যতটা সচেষ্ট এবং সিরিয়াস, তার আলোকে চিন্তা করলে প্রথম শ্রেণি নিয়ে তত সিরিয়াস নই। দৃষ্টি, যত্ন এবং চিন্তা ভাবনাও কম।

প্রথম শ্রেণির দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ, কোচিং স্টাফ ও সাপোর্টিং স্টাফ কিছুই নেই। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড আর ভারতের দিকে তাকান, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের স্ট্যান্ডার্ড কত হাই। তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে কত সিরিয়াস।

প্রতিটি স্টেট দলের নিজস্ব মাঠ আছে। পরিপূর্ণ প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ, কোচিং-সাপোর্টিং স্টাফ সব কিছুই আছে। আমাদের কী আছে? জাতীয় লিগ শুরুর আগে কোন দল এক-দেড় মাস বহুদুরে, ১৫ দিনের প্রস্তুতি নেয়ারও সুযোগ পায় না। একটি প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলার সুযোগ পায় না। গৎবাঁধা তিন চারদিন প্র্যাকটিস করে নেমে পড়ে চারদিনের প্রথম শ্রেণির ম্যা খেলতে। যা নেহায়েত অপ্রতুল। মাঠের সাথে দলের সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগটা আর হয় না।

Ashraful

আমি নিজে এবার বরিশালে প্র্যাকটিসে একদিন নেটে ৪৮ বল খেলে এবং মাত্র দু’দিনের অনুশীলনে নেমে গেছি জাতীয় লিগ খেলতে। এত কম সময় ব্যাটিং অনুশীলনের পরও আমরা আশায় থাকি ব্যাটসম্যানরা নেমে বিগ হান্ড্রেড হাঁকাবে, ডাবল সেঞ্চুরি করবে। যা রীতিমত অলিক কল্পনা। নেটে এত কম বল খেলে কী আর ম্যাচে বিগ ইনিংস খেলা সম্ভব?

এসব জায়গায় আমরা পিছিয়ে। আমরা এখন পর্যন্ত জাতীয় লিগের একটা নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারিনি। হুট করে খেলা শুরু হয়ে যায়। বিভাগীয় দলগুলোর নিজস্ব সেটআপ নেই। প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ ভাল না। কোচিং স্টাফ দরকার আরও স্কিল্ড, অভিজ্ঞ। অনুশীলনের সময় ও ধারাও পাল্টাতে হবে। এসব জায়গায় অবশ্যই উন্নতি দরকার আছে।

জাগো নিউজ : উইকেটের কী অবস্থা? এখন যে উইকেটে খেলা হয় তা কী মানসন্মত? একটু বলবেন?

আশরাফুল : নাহ এখন বিসিবি উইকেটের দিকে নজর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে মোটামুটি ভাল উইকেটেই খেলা হয়। একেক ভেন্যুতে একেক রকম উইকেট। ঘাসের উইকেট, স্পিন পিচ তৈরির চেষ্টাও চলছে। বিকেএসপিতে শেষ ম্যাচ খেললাম পুরো টার্নিং পিচে। প্রথম বল থেকেও বল ঘুরেছে। আবার কিছু মাঠে আছে বাউন্সি পিচ। ফতুল্লায় গতবারের আগেরবার দেখেছি এক আঙ্গুল সমান ঘাসের উইকেট। বল নাক-মুখের আশপাশ দিয়ে গেছে। শেষ তিন চার বছর উইকেটের মান উন্নত করার চেষ্টা হয়েছে। এখন কয়েকটা মাঠ আছে সেখানে ঘাস থাকলেও ব্যাটিংটা সহজ।

জাগো নিউজ : জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার আগ্রহ কম, আপনিও কী তা মনে করেন?

আশরফুল : নাহ! আমার তা মনে হয় না। ন্যাশনাল টিমের খেলোয়াড়রা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে চায় না, এটা বাজে কথা। আমিতো মুমিনুল, মুশফিককে কখনো জাতীয় লিগ না খেলে থাকতে দেখিনি। বিচ্ছিন্ন দু’একজনের হতে পারে। তবে ঢালাওভাবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে উৎসাহী নয়, আমি তা মানতে ও বলতে নারাজ। সবাইকে দোষারোপ করে লাভ নেই। আগে পাইলট ভাইসহ অনেক বড় ভাইদের দেখেছি নিয়মিত জাতীয় লিগ খেলেছেন।

জাগো নিউজ : আপনি বলছেন প্রথম শ্রেণির মান ভাল হয়েছে। তারপরও টেস্টে জাতীয় দলের পারফরমেন্স আশাব্যাঞ্জক নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ঘরের মাঠেও যাচ্ছেতাই রকমের পারফরমেন্স ও করুণ পরাজয় হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণ কিভাবে সম্ভব? টেস্ট ভাল করতে হলে আসলে করণীয় কী?

আশরাফুল : আসলে যে যাই বলুক না কেন, প্রথম ও শেষ কথা হলো খেলতে হবে প্রচুর। আপনাকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হবে। প্রথম শ্রেণির মান বেড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীতার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উইকেটের চেহারাও আগের চেয়ে ভাল হয়েছে; কিন্তু আমাদের ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলছে অনেক কম।

Ashraful

আগে তাও দুই পর্বে অন্তত ১০ থেকে ১১টা ম্যাচ খেলার সুযোগ হতো। এখন জাতীয় লিগে এক দল খেলছে সর্বোচ্চ ৬ ম্যাচ। যদিও বিসিএল করা হয়েছে, সেখানেও হাতে গোনা ম্যাচ। সব মিলিয়ে একজন ক্রিকেটার বছরে গোটা দশেক প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলছে মাত্র। এটা নেহায়েত কম।
ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা এর দ্বিগুণ-তিনগুণ ম্যাচ খেলছে সারা বছর। আমার মনে হয় প্রতিটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারকে অন্তত বছরে গোটা বিশেক ম্যাচ খেলতে হবে। এর কম খেললে হবে না। নিজেকে মাঠে খেলে খেলেই তৈরী করতে হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আর প্রতিপক্ষ বোলিং মোকাবিলার সামর্থ্য বাড়বে। এর বিকল্প কোন পথ নেই।

জাগো নিউজ : দেশের বাইরে কুইক ও বাউন্সি পিচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ভাল খেলতে পারেন না, আপনি কতটা একমত?

আশরাফুল : নাহ পুরোপুরি একমত নই। তিন বছর আগে নিউজিল্যান্ডের কঠিন ফাস্ট ও বাউন্সি পিচে আমাদের সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। মুশফিকের ব্যাট থেকে দেড়শো প্লাস ইনিংস বেরিয়ে এসেছে। একদম না পারলে এমন জোড়া ইনিংস আসলো কি করে? আমি যদি ভুল না করি তাহলে টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপটাও তো নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই। কাজেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা ফার্স্ট ও বাউন্সি পিচে পারেন না এটা ঠিক না।

জাগো নিউজ : ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলেও জাতীয় দলে সুযোগ মেলে না, আপনি কী অভিযোগের সাথে একমত?

আশরাফুল : আমি এ প্রশ্নের জবাব একটু ঘুরিয়ে দিচ্ছি। মানছি আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানের বিস্তর ফারাক।

তারপরও যারা ভাল খেলছে, বা খেলে তারাতো কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে। যে মানই হোক না কেন সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরিকে কী আপনি ক্রেডিট দিবেন না। তাদের কী কোনো কৃতিত্ব নেই? তাহলে তাদের মূল্যায়নটা কি করা যায় না?

তুষার ভাই (তুষার ইমরান ) লাগাতার ভাল খেলছেন জাতীয় লিগে। সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করেছেন। কই তাকে তো কোন সুযোগই দেয়া হয়নি। এমন আরও কিছু ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, শাহরিয়ার নাফীস আর রকিবুলও ভাল খেলেছে; কিন্তু তাদের পারফরমেন্সের মূল্যায়ন হয়নি।

আমার মনে হয় ওই ইনফর্ম পারফরমারদের অবশ্যই বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা উচিৎ। যারা ভাল খেলেছে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রচুর রান করেছে, তাদের আলাদা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেত। কার কোথায় সমস্যা? তা খুঁজে বের করে তার সমাধানের চেষ্টা করা উচিৎ ছিল। কারো হয়তো ফিটনেসে কমতি ছিল, কেউ হয়ত বা বাউন্সি বাউন্সারে তত স্বচ্ছন্দ নয়, এগুলো আলাদা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে উন্নত করা সম্ভব ছিল।

তাহলে কাম ব্যাকের একটা পথ থাকতো। আমাদের ওসব কিছুই নেই। আমার কথা হলো যারা ভাল খেলছে তাদের ডিরেক্ট ন্যাশনাল টিমে না নিয়ে ফিটনেস বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে নিরুপণের চেষ্টা করা যেত। তাহলে তুষার ভাই আর রাজ ভাই (রাজ্জাক) আরও সার্ভিস দিতে পারতেন।

ভারতে একজন ব্যাটসম্যান জাতীয় দলে ফেইল করলে তাকে দলে ফেরানোর নানা পথ খুঁজে দেয়া হয়। নানা টুর্নামেন্টে সুযোগ দেয়া হয়। তারাও ওই সুযোগগুলো কাজে লাগান। আমরা তা দেই না। ভারতের পৃথ্বি ’শ কে দেখেন। টেস্ট ম্যাচে ফেইল করেছে। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ও সিলেক্টররা তাকে ৪ দিনের ম্যাচে সুযোগ দিয়েছে। কামব্যাক করার রাস্তা দিয়েছে। আমাদের কাম ব্যাক করার কোন রাস্তাই নেই।

জাগো নিউজ : টি-টোয়েন্টি নিয়ে আপনার কী মত?

আশরাফুল : ওই একই কথা। প্রচুর খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টিতো আমাদের খেলাই হয় না। এত কম ম্যাচ খেলে আপনি উন্নতি করতে পারবেন না। প্রচুর খেলা দিতে হবে। একটি দুটি ম্যাচ কিছুই না। অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হবে।

এআরবি/আইএইএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]