চবির হলে রামদাসহ যুবক আটক, পুলিশে সোপর্দ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চবি
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে রামদা নিয়ে প্রবেশকালে এক যুবককে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। আটকের পর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত যুবকের নাম নূর ইসলাম বিপ্লব। তিনি ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে পরিচিত এবং নগরীর ল্যাবরেটরি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। জানা যায়, তিনি একসময় ছাত্রলীগের ইকবাল গ্রুপের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ (ISS)-এ কর্মরত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, স্কুলজীবনের কয়েকজন জুনিয়রের কাছে চোরাই মোবাইল বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তার বাবা ও আমানত হলের এক শিক্ষার্থীর সহায়তায় গেস্টরুমে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত জানতে পারে, ভুক্তভোগী তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে রামদা নিয়ে ভুক্তভোগী ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধুকে কোপানোর উদ্দেশ্যে হলের ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে শাহ আমানত হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আকাইদ খান বলেন, গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আমি হল থেকে বের হচ্ছিলাম। এ সময় লক্ষ্য করি, একজন ব্যক্তি হাত ও মুখ সম্পূর্ণভাবে ঢাকা অবস্থায় এক হাত পেছনে রেখে দ্রুত হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আমাকে ক্রস করে যাওয়ার পর সন্দেহবশত পেছনে ফিরে তাকালে দেখি, সে তার কোমরে রাখা একটি রামদা ভালোভাবে গুছিয়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমি সঙ্গে সঙ্গে তার পিছু নেই এবং সুযোগ বুঝে তাকে ধরে তার কোমর থেকে রামদাটি কেড়ে নেই। পরে আশপাশে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তাকে আটক করি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সব সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা যাচাই অবিলম্বে সম্পন্ন করা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৃহৎ হল হিসেবে শাহ আমানত হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো হলকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন।

চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, তাদের ঘটনাটা সমঝোতা করতে চেয়েছিল হলটির এক শিক্ষার্থী। তার কাছে ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি থেকে ফোন ক্রেতা ৩ জন। খবর পেয়ে ওই নিরাপত্তা কর্মী রামদা নিয়ে হলে আসলে তাকে শিক্ষার্থীরা আটক করে। তারপর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, গতকাল তাকে আটকের পর আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো মামলা দায়ের করেনি।

কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।