ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবি চবি কর্মচারী ইউনিয়নের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের নিয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কর্মচারী ইউনিয়ন।

বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআবিকফ) ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় তারা বাআবিকফ কর্তৃক প্রণিত ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে।

দাবিগুলো হলো

১. স্থায়ী বেতন কমিশন গঠনপূর্বক বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ১০ ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।

২. বাআবিকফ কর্তৃক পেশকৃত খসড়া আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি নীতিমালা অথবা সব পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের নীতিমালা পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৩. বাংলাদেশ সচিবালয়ের ন্যায় প্রধান সহকারী/সমমান, উচ্চমান সহকারী/সমমান পদে কর্মরত কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল (২০০৯) ৮,০০০- ১৬৫৪০ দশম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. কর্মচারী নিয়োগ এবং কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব-স্ব বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরকে কমিটিতে রাখতে হবে।

৫. বাংলাদেশ
কর্মচারী ফেডারেশনকে বাৎসরিক দশ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দিতে হবে।

৬. সব পাবলিক, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা অনুসরণ করতে হবে।

৭. কোনো কারণে সামরিক/স্থায়ী বরখাস্তকরণের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন/শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধি রাখতে হবে।

৮. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কল্যাণ শাখা কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় তার পরিবারকে ৮ লাখ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে চার লাখ টাকা দিতে হবে।

৯. যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ আভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১১. পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মানববন্ধনে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি সুমন মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে মেধাবী ছাত্ররা যখন বিশ্ববিদ্যালয়েরই বিভিন্ন পদে-দপ্তরে যোগদান করার চেষ্টা করছে ঠিক তখনই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অভিন্ন নীতিমালা নামক একটি প্রহসন আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা এ প্রহসন মানি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রণীত সেই ৭৩-এর অ্যাক্ট বলবৎ চাই।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলী হোসাইন বলেন, আমি ইউজিসিকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রক নাকি পরামর্শক? আজকের মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি দাবি থাকবে ইইজিসি কর্তৃক প্রণীত অভিন্ন নীতিমালা নামক প্রহসন যেন সরকার গ্রহণ না করে। অন্যথায় আমরা তা প্রতিহত করবো।

এ সময় কর্মচারী ইউনিয়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি রশীদুল হায়দার জাভেদ।

রোকনুজ্জামান/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]