ঠিকাদার থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ রাবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ১০ আগস্ট ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নির্মাণাধীন একটি একাডেমিক ভবনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মোমিনুল ইসলাম নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভবনটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ অ্যান্ড সন্সের কাছে হল চালানোর খরচের কথা বলে এ টাকা দাবি করেন তিনি। তবে এর আগেও সাড়ে ৩৪ হাজার টাকা চাঁদা তাকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোমিনুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, এ এইচ এম কামারুজ্জামান হল, ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। পরে ২০১৯ সালে সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স ১০ তলা বিশিষ্ট শহীদ কামারুজ্জামান আবাসিক হল ও ২০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের কাজ পায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনের কাজ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতা মোমিন সেখানে গিয়ে হল চালানোর খরচের কথা বলে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পটির এক সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘এর আগে তাকে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তিনি তাদের কাছে চাঁদা চাওয়া শুরু করেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন ভাই আমরাও ভীত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের কোম্পানির ওপর মহলে জানানোর পর তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। গত কয়েকদিন ধরে আর আসেনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করিনি। আমাকে একদল লোক ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সামনে শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন তাতে আমি একজন পদপ্রার্থী। আমাকে দমিয়ে রাখার জন্য এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী খন্দকার শাহরিয়ার আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেখানে সমস্যা করছিল জানার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাই। উপাচার্য বিষয়টি সরাসরি ডিল করছেন। এখন আর সমস্যা হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘অফিসিয়ালি আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। পত্রিকার খবরে দেখলাম।’

মনির হোসেন মাহিন/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।