রাবিতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাবার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের ভিতরের হোটেলগুলোতে খাবারের দাম বাইরের থেকে বেশি রাখছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে খাবারের দাম কম হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চড়া দাম রাখছেন দোকানিরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দোকানগুলোতে সিঙ্গারার দাম পাঁচ টাকা রাখা হলেও ক্যাম্পাসের ভিতরে সিলসিলা হোটেলে সিঙ্গারার দাম ৭-৮ টাকা রাখা হচ্ছে। চপের দাম বাহিরে পাঁচ টাকা হলেও সিলসিলাতে আট টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন চিত্র শুধু সিলসিলাই নয় ক্যাম্পাসের সব দোকানেই দাম বেশি রাখছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে সিঙ্গারার দাম সাত টাকা, পুরির দাম ৭-৮ টাকা রাখা হচ্ছে যেখানে বাহিরে পাঁচ টাকায় পাওয়া যায় এসব সিঙ্গারা-পুরি। পিয়াজুর দাম পাঁচ টাকা রাখলেও সাইজ অনেক ছোট। চায়ের দাম এক টাকা বাড়িয়ে ছয় টাকায় বিক্রি করছেন ক্যাম্পাসের হোটেল মালিকরা। সকালের নাস্তা পরোটা ও ভাজিতেও দাম বাড়ানো হয়েছে। আগের থেকে সাইজ অনেক ছোট করাও হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

University2

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের হোটেলগুলোতেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাবার। দেড় প্লেট ভাত খেতে লাগছে ৩৫ টাকা যা বাহিরে ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যায়। সবরকম তরকারিতেও দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতেও রাখা হচ্ছে চড়া দাম। প্রতি পিস ডিমের দাম ৮ টাকা হলেও ডিমভাজি করে ১৮-২০ টাকা বিক্রি করছেন দোকানিরা। প্লেট প্রতি খিচুড়ি রাখা হচ্ছে ২০ টাকা যা বাইরে ১৫ টাকায় পাওয়া যায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকির অভাবেই এমনটা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি নিয়মিত এসব দোকানের তদারকি করতেন তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দাম বেশি রাখার সাহস পেতো না এসব হোটেল মালিকরা। দোকানের ভাড়া বেশি দিয়ে বাহিরের দোকানিরা যদি কম টাকায় বিক্রি করতে পারে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কম ভাড়া দিয়ে কেন পারবে না? প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এসব শিক্ষার্থীরা।

লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পলক মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে খাবারের দাম বাইরের থেকে বেশি। এটা নিয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তাছাড়াও আমাদের ভার্সিটি থেকে অন্যান্য ভার্সিটির হোটেলগুলোতে খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হোটেল মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।

University2

বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ খান জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। ক্যাম্পাসে বাইরে কম টাকায় খাবার পাওয়া গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে পাওয়া যায় না। সিঙ্গারা, পুরি, চপ, পিয়াজু বাইরে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতরে এসব খাবারের পরিমাণও ছোট এবং দামও বেশি নিচ্ছে দোকানিরা। দ্রব্যের দাম বাড়লেও আমাদের পরিবারের মাসিক আয় কিন্তু বাড়ছে না।

বাবু হোটেলের মালিক বাবু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির ফলে আমাদের কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে বাইরের থেকে বেশি বাড়ানো হয়নি। যদি দ্রব্যের দাম কমে তাহলে আমরাও খাবারের দাম কমাবো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, এরই মধ্যে আমরা বিষয়টি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের খাবারের দাম যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে খাবারের মূল্যের সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করে দিবো। তার জন্য আমাদের আগে বাইরের খাবারের দাম সম্পর্কে জানতে হবে।

মনির হোসেন মাহিন/জেএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।