জকসু নির্বাচন: ৪ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে ছাত্রশিবির

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, ছবি: জাগো নিউজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভোট গণনা কার্যক্রমে গতি আসেনি। মোট ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি কেন্দ্রের আংশিক ফলাফল পাওয়া গেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সহকারী নির্বাচন কমিশনার ড. আনিছুর রহমান এসব কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।

প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন এবং ফার্মেসি, এই চার বিভাগে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনায় ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ফলাফলে দেখা গেছে, ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। একইভাবে জিএস পদে এগিয়ে আছেন একই প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ এবং এজিএস পদে এগিয়ে আছেন মাসুদ রানা।

ভূগোল, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম (ছাত্রশিবির) যথাক্রমে ১০০, ১২৮, ১২২ ও ৭৮ ভোট পেয়ে মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৪২৮। অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী রাকিব পেয়েছেন ৯১, ১১৮, ১৩২ ও ৫৩ ভোট চার বিভাগ মিলিয়ে তার মোট ভোট হয়েছে ৩৯৪। ছাত্রফ্রন্টের প্রার্থী কিশোর সাম্য পেয়েছেন ১৭ ভোট।

জিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ভূগোল, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগে যথাক্রমে ৯০, ১২৩, ১২৩ ও ৮৩ ভোট পেয়েছেন। চার বিভাগ মিলিয়ে তার মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৪১৯। ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা পেয়েছেন ৪৫, ৭৩, ৬২ ও ২৬ ভোট, মোট ২০৬। বামঘরানার প্রার্থী ইভান তাহসিভের ভোট ৩৯, ৪৬, ৫৯ ও ১৩, যোগফলে মোট ১৫৭। ছাত্রশক্তির প্রার্থী ফয়সাল মুরাদের ভোটসংখ্যা পাওয়া যায়নি।

এজিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা তিন বিভাগে ৯৮, ১০২ ও ১৩০, ৭৮ ভোট পেয়েছেন, মোট ভোট ৪০৮। ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল তিন বিভাগে ৮৫, ১২৬ ও ১০৬, ৪৫ ভোট পেয়ে মোট ৩৬২ ভোটে অবস্থান করছেন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট গণনায় বিলম্ব হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ব্রিফিংয়ে সহকারী নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, দুটি মেশিনে ভিন্ন ফলাফল আসায় যাচাই করতে সময় লাগছে এবং অভিন্ন ও নির্ভুল ফল নিশ্চিত করেই গণনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে রাত ১টার দিকে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০০ ভোট কাস্ট হয়েছে এমন একটি কেন্দ্রের ভোট প্রথমে ম্যানুয়ালি গণনা করা হয়। এরপর দুটি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে একই ভোট পুনরায় গণনা করা হচ্ছে। ম্যানুয়াল গণনার ফলাফলের সঙ্গে যে মেশিনের ফল মিলবে, সেই মেশিন দিয়েই পরবর্তী সব কেন্দ্রের ভোট গণনা সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি ভোট দিয়ে নতুন করে গণনা শুরু করা হয়।

মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভোট গণনার মেশিনে টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দিলে পুরো প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সমস্যার সমাধান শেষে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষের কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কেন্দ্রের ফল প্রকাশ না হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

টিএইচকিউ/এসএনআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।