চবিতে সাংবাদিক হেনস্তা

১৭ দিনেও প্রতিবেদন দেয়নি তদন্ত কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৪:০৭ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক হেনস্তাকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সদস্যরা। হেনস্তার পরে ১৭ দিন হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন না দেওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সমিতির নেতারা।

রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় চবিসাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। অবস্থান কর্মসূচি শেষে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

চবিসাস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চবিসাসের সদস্য ও দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারজান আকতারকে হেনস্তা করেন। তাকে ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে মোবাইলফোন কেড়ে নিতে চান। পরে এই প্রতিনিধি মোবাইলফোন ব্যাগে নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা ব্যাগ ধরেও টানাটানি করেন। এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় চবিসাস। দুই মেয়াদে আল্টিমেটাম দেওয়ার পরেও এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভুক্তভোগী মারজান আক্তার বলেন, ঘটনার ১৭ দিন পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি প্রশাসন। উলটো দেখছি যারা আমাকে হেনস্তা করেছে তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় তারা আমার ক্ষতিও করতে পারে। এর আগেও গতবছর সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার করতে পারেনি প্রশাসন। আমাকে যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অবস্থান কর্মসূচিতে চবিসাসের সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, এ ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ প্রধান হেনস্তাকারীকে বহিষ্কার করে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ছাত্রলীগ পারলে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিতে পারছে না? প্রত্যেকটা হেনস্তাকারীর প্রমাণসহ ছবি আমরা প্রশাসনকে দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন আশ্বাসের নামে গড়িমসি করছে। এরইমধ্যে ১৭ দিন পার হয়ে গেছে। সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া তাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার শামিল। আজকের অবস্থান কর্মসূচি থেকে স্পষ্টভাবে বলছি, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, এ ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন চাকসুর কার্যক্রম নেই। চাকসু না থাকাতে ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর মুখপাত্র হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে সাংবাদিকরা। যখন সাংবাদিকদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, তখন মূলত সব শিক্ষার্থীর স্বাধীনতাই কেড়ে নেওয়া হয়। তাছাড়া সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা চবি ক্যাম্পাসে নতুন নয়। কার্যকর শাস্তি না হওয়ায় বারবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আমরা দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করছি। নতুবা পরবর্তীতে প্রশাসনের সব ধরনের সংবাদ বর্জনসহ কঠোর আন্দোলন ডাক দিতে বাধ্য হবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, আমরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলবো। দ্রুত যেন দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হয় সেই সুপারিশ করবো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আখতার বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট ড. শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, অপরাধীদের শনাক্তে আমাদের কাজ চলছে। আমরা ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী সবার সঙ্গে কয়েকবার করে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।