প্রশাসনের আদেশ অমান্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছে পেরেক ঠুকে ছাত্রলীগের ব্যানার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন সড়কে ছোট-বড় গাছে পেরেক ঠুকে সম্মেলনের ব্যানার সাঁটাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের এতে গাছগুলো মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলকে বিরত থাকতে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালায়। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। এমন নির্দেশনার পরেও গাছগুলোতে ঝুলছে ব্যানার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ফটক থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের গেট পর্যন্ত সড়ক, প্যারিস রোড, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের গাছগুলোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর প্রায় প্রতিটি গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা।
আরও পড়ুন: পেরেক ঠুকে গাছে ব্যানার টানানো বন্ধে ক্যাম্পাসে মাইকিং
প্যারিস রোডে যেসব নেতার সাইনবোর্ড দেখা গেছে তাদের মধ্যে- ছাত্রলীগের কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বদেশ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি কাবিরুজ্জামান রুহুল ও শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু প্রমুখ।
সাইনবোর্ড সাঁটানোর বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটা জানতাম না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সাইনবোর্ডগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করবো।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রাজশাহী জেলার সমন্বয়কারী তন্ময় স্যান্যাল বলেন, গাছের জীবনকে নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। এখানে সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে। সরকার আইন করেছে কিন্তু আইনকে যারা বাস্তবায়ন করবে তারা সঠিকভাবে সেটা পালন করছে না। কোনোভাবেই এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। যদি সবাইকে সচেতন করা যায় তাহলে আগামী দিনে গাছ নিধন কমে আসবে।
আরও পড়ুন: পেরেকে ক্ষত-বিক্ষত ‘পরিবেশ বন্ধু’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম কবির বলেন, গাছে পেরেক ঠুকানো একদম ঠিক না। আমাদের যেমন নার্ভস সিস্টেম রয়েছে গাছেরও তেমন সিস্টেম কাজ করে। গাছ কথা বলতে পারে না তাই এভাবে হাজার কষ্ট সহ্য করে।

এছাড়াও তিনি বলেন, পেরেক একবার ঠুকালে সেখানে গর্ত হয়ে থাকে। পরে সেই গর্তে নানান রকমের জীবাণু প্রবেশ করে। অনেক গাছ সেই জীবাণুগুলো সহ্য করতে পারে না। তখন গাছের গায়ে টিউমার হয়ে যায়। একপর্যায়ে গাছগুলো মারা যায়। মানুষকে উৎসাহিত করা উচিৎ যেন গাছে পেরেক না মারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, গাছগুলো বাঁচাতে আমরা যদি সহযোগিতা না করি তাহলেতো ক্ষতি হবেই। ক্ষতিটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের হবে না ক্যাম্পাসের প্রতিটা মানুষের হবে।
মনির হোসেন মাহিন/আরএইচ/জিকেএস