গাজীপুরে ১৫ পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ১৩ মে ২০২০

গাজীপুরের ১১ পোশাক কারখানার ১৫ শ্রমিক করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে এবং ১০ জন হোম আইসোলেশনে।

গত ৮ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ১০ জন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। পরের পাঁচজনের মধ্যে তিনজন গাজীপুরে এবং দুজনের লালমনিরহাটে নমুনা পরীক্ষার পর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

কাশিমপুরের সাবাবো এলাকার পোশাক কারখানার এক শ্রমিক ৬ মে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় পজেটিভ হলে তিনি গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পালিয়ে যান। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া মসরুর গিয়ে তাদের বাড়িটি লকডাউন করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গাজীপুরের কাশিমপুর সাবাবো এলাকার একটি কারখানার ওই পুরুষ শ্রমিক নাগরপুর থানার গয়হাটা এলাকার পুগলি গ্রামে হোম আইসোলেশন রয়েছেন।

এদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এএসএম ফাতেহ্ আকরাম বলেন, তেলিহাটি এলাকার একটি কারখানার একজন শ্রমিক (৩০) কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। তিনি হোম আইসোলেশন রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায়।

গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন বলেন, করোনা পজিটিভ দুই পোশাক শ্রমিক টঙ্গীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে, গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার শিরিরচালা এলাকার দুই কারখানার চারজন পোশাক শ্রমিক (শিরির চালা) ওই এলাকিায় ভাড়া বাড়িতে এবং আরও দুইজন টঙ্গীর খাঁ পাড়া এলাকায় হোম আইসোলেশনে আছেন। এই দুইজন টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত পোশাক কারখানার তিনজন শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনই আলাদা পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাদের মধ্যে একজন আইসোলেশন সময় পার করে বাসায় চলে গেছেন।

টঙ্গী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, তার হাসপাতালে দুই পোশাক শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাদের মধ্যে একজন নওগাঁর পীরগঞ্জের নাগরিক। তিনি টঙ্গীর মুদাফা এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অপরজন জামালপুর জেলা সদরের নাগরিক। তিনি স্থানীয় গাজীপুরা এলাকার একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক। তিনি এখান থেকে নমুনা পরীক্ষার পর কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে চলে যান।

এদিকে লালমনিরহাট জেলার সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় বলেন, ১৮ এপ্রিল ছুটিতে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় কর্মরত দুই শ্রমিক সপরিবারে লালমনিরহাটে যান। সেখানে গিয়ে নমুনা পরীক্ষার পর ৭ মে পাওয়া রিপোর্টে জানা গেছে তারা দুইজনসহ তাদের পরিবারের ছয় সদস্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ এপ্রিল প্রথম জয়পুরহাট জেলার এক শ্রমিক কোভিড-১৯ শনাক্ত হলে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১ মে নওগাঁ জেলার এক শ্রমিককে টঙ্গীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে, ২ মে রংপুর জেলার একজন ও ৬ মে লালমনিরহাট জেলার এক শ্রমিককে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বশেষ ৮ মে জামালপুর জেলার এক শ্রমিককে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও কোভিড-১৯ শনাক্ত আরও ১০ শ্রমিক হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, কারখানা মালিকদের করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চিঠি দেয়া হয়েছে। যাতে শ্রমিকদের কারখানায় ঢোকার সময় তাপমাত্রা পরিমাপ করাসহ তাদের হাত ধোয়া ও নাকে-মুখে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হয়। বিভিন্ন কারখানায় করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি পালিত হচ্ছে কি-না তা মনিটরিং করা হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।