শোলাকিয়ার সেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু
অবশেষে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে পাকা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। বছরের পর বছর ধরে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ শোলাকিয়া সংলগ্ন নদীতে একটি পাকা সেতুর জন্য বিড়ম্বনা পোহাচ্ছে লাখো মুসল্লি।
দীর্ঘদিন পর আবারও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে সেতুর নির্মাণ কাজ। তবে এবারও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মামলা। তবে এবার বাধার মুখেই চলছে সেতু নির্মাণ কাজ। এরই মধ্যে ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটিতে পাকা সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে বার বার চেষ্টা করেও সেতু নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই বছরের দুই ঈদ ছাড়াও সারা বছর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে নরসুন্দা নদী পারাপার করতে হয় এলাকাবাসীকে।
এরই মধ্যে নয়বার দরপত্র আহ্বান করেও সেতু নির্মাণ করা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সেতুর দাবিতে কিশোরগঞ্জ- করিমগঞ্জ সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।
অনেকদিন আগে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে বাঁশের সাঁকোর স্থলে একটি পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাধার মুখে সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়বার দরপত্র আহ্বান করেও সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বছরের পর বছর শোলাকিয়া ঈদগাহের মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর ‘নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। গত ২৭ অক্টোবর দুই লেনবিশিষ্ট ৪০ মিটার আর্চ ব্রিজ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু সেতুর জমি নিয়ে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হলে প্রকল্প কাজ আবারও স্থগিত করা হয়। এ অবস্থায় সেতু নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
পরে আবারও সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। হামীম এন্টারপ্রাইজ নামে মাদারীপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।
তবে কাজ শুরুর কিছুদিন পরই গত ২৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. নূরুল ইসলাম। তার মালিকানাধীন জমিতে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে স্থিতাবস্থা দাবি করে রিট করেন নূরুল ইসলাম। ফলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় সেতুর নির্মাণ কাজ। কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর আবারও নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
মামলার বাদী মো. নূরুল ইসলাম জানান, প্রকল্প এলাকায় তার ১৩ শতাংশ জমি আছে। জমি অধিগ্রহণ না করেই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মৌখিকভাবে আমাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই উভয় পক্ষের সম্মতিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসন ক্ষতিপূরণ দিতে টালবাহানা করায় আমি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়েছি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মাওলা জানান, নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সেতুর ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এবারের ঈদেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে না এলাকাবাসী। আগামী ডিসেম্বরে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
এফএ/এমএস