সংঘর্ষে না জড়ানোর অঙ্গিকার করলো দু’পক্ষ


প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ০৩ জুলাই ২০১৬

সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদর নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে পুড়ছে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের আদমপুর এলাকা। আধিপত্যের লড়াইয়ে গত তিন দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেও থামানো যাচ্ছেনা এ লড়াই।

গত শুক্রবার থেকে তিন দিনে আদমপুর বাজারে তিন দফা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আর এতে পুড়ে গেছে অন্তত দেড় শতাদিক দোকান-পাট। এসব সংঘর্ষ ও আগুনে ক্ষতি হয়েছে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ। রোববার বিকেলেও আদমপুর বাজার সংলগ্ন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বাসায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রোবার উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। আর কেউ সংঘর্ষ অগ্নিসংযোগ করবেনা বলে ওয়াদা করে। কিন্তু এরপরই দুর্বৃত্তরা আবারও অগ্নিসংযোগ করে বাজার এলাকায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
 
জানা গেছে, শুক্রবার থেকে সৃষ্ট দুই দিনে ব্যাপক হাঙ্গামার পর রোববার আদমপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফ মিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বাদলসহ তাদের লোকজনেরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আর সংঘর্ষে লিপ্ত হবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। দু’পক্ষের অঙ্গীকারের সময় উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলী গের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চু ও অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মোল্লা।

এদিকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার আদমপুর বাজার সংলগ্ন আদমপুর দেওয়ান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসভবনের ভেতরে থাকা খাট, লেপ-তোষক পুড়ে যায়।    

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার দুপুরে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় একপক্ষের লোকজন আদমপুর বাজারে গিয়ে বাজারের ৫০টি দোকান আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়।  পুলিশ গিয়ে ১৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার জের ধরে শনিবার দুপুরে আবারও দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ দিন আদমপুর বাজারে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়  ২০ ব্যবসায়ী।

আদমপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মো. নুর উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দফায় দফায় হামলায় আদমপুর বাজারের দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়।

তবে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম রোববার রাত ৯টার দিকে জাগো নিউজকে বলেন, উভয়পক্ষ আর সংঘর্ষে লিপ্ত হবেনা বলে অঙ্গিকার করেছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত। তবে অষ্টগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসায় অগ্নিকাণ্ডে সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো যোগসূত্র নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আ. মান্নান ৭২ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী বাদল মিয়া ফলাফলের ব্যাপারে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত নতুন করে ভোট গণনার জন্য আদেশ দেন। এরপর বিজয়ী চেয়ারম্যান মান্নান সুপ্রিমকোর্টে গেলে আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

নুর মোহাম্মদ/ এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।