জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের ৩ নারী সদস্য আটক


প্রকাশিত: ০৭:৪২ এএম, ০৬ জুলাই ২০১৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়।

মঙ্গলবার ভোরে আটক করা হলেও গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাদের বিকেলে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি পুলিশ আটকদের সন্ধ্যায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে। কিন্তু আসন্ন ঈদের কারণে আদালতের বিচারিক হাকিম অঞ্জন কান্তি দাস তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আখেরুজ্জামান জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যের একটি দল টাঙ্গাইলে অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়।

এরপর মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার যোকারচর রেলগেটের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি, একটি ছুরি, জিহাদি ভিডিও ও বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাখবপুর ভূতমারা গ্রামের মোখছেদুল ইসলাম ওরফে মোজাম্মেল ওরফে হারেজের স্ত্রী রোজিনা বেগম। পঞ্চগেড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ছোবাহার গজপুরী গ্রামের নজরুল ওরফে বাইক নজরুল ওরফে পারভেজ ওরফে হাসানের স্ত্রী সাজিদা আক্তার।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগরা কুসুমদী গ্রামের আবু সাইদ ওরফে সবুজের স্ত্রী জান্নাতীর ওরফে জেমি। রোজিনার সঙ্গে তার দুই শিশু সন্তান এবং জান্নাতী ওরফে জেমির সঙ্গে এক শিশু সন্তান রয়েছে।

টাঙ্গাইল কোর্টের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আটকদের টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড আবেদনের শুনানি ঈদের ছুটির পর আদালত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ঘটনায় কালিহাতী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে তিন নারী জেএমবি সদস্য ও তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় করা হয়, তারা জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। তিনজনই দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত। সেই সঙ্গে তারা ঈদের আগে অথবা পরে দেশের বৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতুটি ক্ষতি করার জন্যই সেখানে অবস্থান করেছিল।

আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।