বগুড়ায় অনুপযোগী সিলিন্ডারই দুর্ঘটনার কারণ


প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ২১ আগস্ট ২০১৬

বগুড়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলপি গ্যাস ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ সময় ব্যবহার অনুপযোগী সিলিন্ডারকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

রোববার দুপুরে রাজশাহীর বিস্ফোরক কার্যালয় থেকে ওই প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ডিপোতে দায়িত্বে থাকা পদ্মা অয়েল কোম্পানির অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিপোর একটি সুত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বগুড়ায় বিপিসির গুদামে মজুত থাকা পদ্মা অয়েল কোম্পানির বেশ কিছু এলপিজি (লিক্যুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) গ্যাসের সিলিন্ডারের মুখে পানি দেখা গেছে। ৮০ শতাংশ সিলিন্ডারের মুখ দিয়ে অনর্গল গ্যাস বের হচ্ছে। এসব সিলিন্ডারের বেশির ভাগই অনেক বেশি পুরাতন। একইভাবে পরীক্ষায় গ্যাস বের হচ্ছিল মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৭৫ শতাংশ সিলিন্ডার থেকে।

তবে ডিপোতে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার না থাকায় যমুনা অয়েল কোম্পানির সিলিন্ডারের মান নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে শনিবার বগুড়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলপি গ্যাস ডিপোতে ট্রাক থেকে নামানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিনিধি দলের পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, শনিবারের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমি বর্তমানে এই ডিপোতে মজুদ রাখা পদ্মা ও মেঘনা কোম্পানির বেশ কয়েকটি সিলিন্ডারের মুখে পানি ভরে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার পরীক্ষা করে দেখেছি। সেখানে ৮০ শতাংশ সিলিন্ডারই ব্যবহারের অনুপযোগী। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার বাড়িতে ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ডিপো সূত্রে জানা যায়, তিনটি কোম্পানি থেকে বগুড়া ডিপোতে প্রতি দফায় একহাজার ৮০০ গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতি মাসে তিন দফায় গড়ে প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার আসে এই ডিপোতে। এর মধ্যে সব সময়ই দুই হাজারের মতো সিলিন্ডার মজুদ রাখা হয়। বাকি সিলিন্ডার গুলো ডিলারদের মাঝে সরবরাহ করা হয়।

বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই পেট্রোবাংলার প্ল্যান্ট থেকে সিলিন্ডার (এলপিজি) গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সমস্যাযুক্ত এসব সিলিন্ডার বাতিল করে নতুন সিলিন্ডার সরবরাহের দায়িত্বও পেট্রোবাংলারই। সে কারণে এখন তদন্ত করে যেই সমস্যা পাওয়া গেলো সেটির ভিত্তিতে এসব সিলিন্ডার বাতিল ঘোষণার সুপারিশ করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই চিঠি পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার বগুড়া শহরতলির বনানী লিচুতলা এলাকায় বিপিসির আঞ্চলিক ডিপোতে ট্রাক থেকে সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণে ৩৭৮টি সিলিন্ডারের মধ্যে ৬-৭টি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং বাকিগুলোতে আগুন লেগে পুড়ে যায়। এ সময় একটি ট্রাকও পুড়ে যায়।

লিমন বাসার/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।