অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে গ্রামবাসী


প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬

শাস্তি ও জরিমানা করা সত্ত্বেও থেমে নেই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে এই বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে আসপাশের এলাকার বাড়ি-ঘর ও আবাদি জমি। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের বাসিন্দারা।

এদিকে ড্রেজার বসিয়ে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরকার দলীয় চেয়ারম্যান হযরত তালুকদার বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও চেয়ারম্যান হওয়ায় তার ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।  

জানা যায়, গত ৬ মাস আগে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ওই উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন বেলটিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করার সময় অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুইটি ড্রেজার পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

ওই সময় অভিযানের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান হযরত তালুকদার ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এর ফলে গত পাঁচ মাস বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। পুনরায় গত একমাস ধরে এ স্থানে বালু উত্তোলন শুরু করেছে তারা। ফলে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ভাঙনের শিকার হয় নির্বিকার হতে চলেছে।

Tangail

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলটিয়া এলাকায় যমুনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে দুইটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

ড্রেজার চালানোর কাজে সম্পৃক্ত কয়েকজন শ্রমিক জানায়, বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত এক মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

স্থানীয় মজিবর রহমান ও আনসার আলীর অভিযোগ, তাদের বাড়ি ছিল নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এভাবে বালু উত্তোলন করায় এখন নদী একেবারে বাড়ির কাছে এসে পড়েছে। একই সঙ্গে যে সড়ক দিয়ে ট্রাকে বালু ভর্তি করে নেয়া হয় সেই সড়কের উপর দিয়ে গ্যাস পাই বসিয়ে বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ট্রাকের যাতায়াতে সেটিও এখন হুমকির মুখে। বারবার নিষেধ করেও কোনো লাভ হয়নি।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে হযরত তালুকদার চেয়ারম্যান বলেন, এই বালুর ঘাটটি সরকারিভাবে লিজ নেয়া হয়েছে। আমি বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করছি।

এ ব্যাপারে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসার উদ্দিন জানান, কালিহাতীতে কোনো সরকারি বালুর ঘাট নেই। ইতিপূর্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হযরত তালুকদারের বালুর ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুইটি ড্রেজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে এখন আবার তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কি না সেটি আমার জানা নেই। যদি তারা বালু উত্তোলন করে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।