টাঙ্গাইলে বন্যায় ৭৬৯ কোটি টাকার ক্ষতি


প্রকাশিত: ১০:৪৫ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

চলতি বছরের বন্যায় সরকারি হিসেবে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ১০ উপজেলার ৮৪টি ইউনিয়ন ও ছয়টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ইউনিয়ন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬৯ কোটি টাকা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যায় এক হাজার ১৩ দশমিক ৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলের তিন দশমিক ৮০, গ্রামাঞ্চলের ৬২৮ দশমিক ৬৯ এবং চরাঞ্চলের ৩৮১ দশমিক ৩১।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৯টি থানা। ক্ষতিগ্রস্ত নারী দুই লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৯, পুরুষ দুই লাখ ৮৪ হাজার ২৭২ এবং শিশু ৬১ হাজার ৩০২ জন। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ জন।

এছাড়াও ১৮টি সম্পূর্ণ পাকা বাড়ি, এক হাজার ৮৭টি আংশিক, আধা পাকা বাড়ি এক হাজার ৩২টি সম্পূর্ণ, পাঁচ হাজার ৯৫৬টি আংশিক, আধাপাকা ঘর এক হাজার চারটি সম্পূর্ণ, চার হাজার ১৪৩টি আংশিক, কাঁচা বাড়ি সাত হাজার ৫৩৪টি সম্পূর্ণ, ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৫টি আংশিক, কাঁচা ঘর ১১ হাজার ১৪৮টি সম্পূর্ণ ও ৫১ হাজার ৫৩১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে মৃত ও ভেসে যাওয়া গবাদি পশুর মধ্যে রয়েছে, ভেড়া ৫৩৫টি, ছাগল এক হাজার ৯৭টি, গরু ৪০৩টি, মহিষ পাঁচটি। হাঁস ৭৩ হাজার ৮৯৪ ও মুরগি ৫৬ হাজার ১৭৪টি।

একই সঙ্গে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২৭ কোটি টাকার। শষ্যক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ২০৩ হেক্টর, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৩ হেক্টর, রোপা আমন ধানের বীজতলা এক হাজার ২৬৮ হেক্টর সম্পূর্ণ ও ৩৩৮ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

tangail

মৎস্য ও চিংড়ি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৪ দশমিক ১১ হেক্টর। বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও ১২ কিলোমিটার আংশিক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মসজিদ ১৩০টি সম্পূর্ণ, ৩১৮টি আংশিক ও মন্দির ৯৭টি আংশিক।

সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকা ৯ কিলোমিটার সম্পূর্ণ, ১৭৫ কিলোমিটার আংশিক, ইট খোয়া দ্বারা নির্মিত ১৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার সম্পূর্ণ, ৫২ দশমিক ২০ কিলোমিটার আংশিক, কাঁচা সড়ক ৬১৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও এক হাজার ৫২ কিলোমিটার  আংশিক। মোট ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ৬৩৮ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও এক হাজার ৪ কিলোমিটার আংশিক।

এছাড়া দুইটি ব্রিজ সম্পূর্ণ, ১৫১টি আংশিক, ৩২টি কালভার্ট সম্পূর্ণ ও ১০৩টি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। নদী ৮ কিলোমিটার সম্পূর্ণ, ১৬ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

বনাঞ্চল তিন হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনায়ন সম্পূর্ণ ২ ও আংশিক ৪ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নার্সারি ৮ দশমিক ৭৫ হেক্টর সম্পূর্ণ ও ২ দশমিক ৭৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩টি সম্পূর্ণ, ৩০৩টি আংশিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ, ৮৭টি আংশিক, কলেজ ৯টি আংশিক, মাদরাসা ৪৪টি আংশিক ও কমিউনিটি স্কুল পাঁচটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অকৃষি ভিত্তিক ১১টি সম্পূর্ণ ও ১২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুইটি গভীর নলকূপ সম্পূর্ণ, ৮টি আংশিক, ২৪৬টি অগভীর নলকূপ সম্পূর্ণ, ১০ হাজার ৬০টি আংশিক, হস্তচালিত সম্পূর্ণ ৪টি ও দুই হাজার ২০৭টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সাত হাজার ৮৪৪টি সম্পূর্ণ ও ২২ হাজার ৬৬৯টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় ২৮৯টি পুকুর সম্পূর্ণ ও ৪৬৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাশয় ২০টি সম্পূর্ণ ও ৭৮টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। ৪টি হাসপাতাল আংশিক, দুইটি ক্লিনিক আংশিক ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুইটি নৌকা সম্পূর্ণ, ১৮টি আংশিক, দুইটি জাল সম্পূর্ণ ও ৬৪টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।