শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী


প্রকাশিত: ০৫:৫৯ এএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ঈদ ও পূজাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী। উচ্চমূল্যে সুতা ক্রয় ও প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বৃদ্ধি সত্তেও টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীগুলোতে সর্বত্রই চলছে বাহারী ডিজাইনের কাপড় বুনানোর ধুম।

ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শাড়ি বানানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ শিল্পের শ্রমিকরা। বন্যার কারণে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও সামনের দিন গুলোতে বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছেন তাঁত মালিকরা।
 
জানা যায়, ঈদের পরেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গা পূজা শুরু হবে। ঈদের ছুটিতে প্রায় পনের দিন বন্ধ থাকবে এ পল্লীর শাড়ি বানানোর কাজ। তাই দেশ ও দেশের বাইরের শাড়ির চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত তাঁতিরা। ঈদ ও পূজা উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা থেকে সপ্তাহে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার পিস কাপড় দেশ ও দেশের বাইরে রফতানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
Tangail

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার তাঁতপল্লী খ্যাত ধুলটিয়া, করটিয়া, বাজিতপুর, সুরুজ, বার্থা, বামনকুশিয়া, ঘারিন্দা, গোসাইজোয়াইর, তারটিয়া, এনায়েতপুর, বেলতা, গড়াসিন, সন্তোষ, কাগমারী প্রভৃতি ও দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চন্ডি, নলুয়া, দেওজান, নলশোঁধা, বিষ্ণুপুর, মঙ্গলহোড়, কালিহাতী উপজেলার বল্লারামপুর, ছাতিহাটি, আইসরা, রতনগঞ্জ কোবডোরা প্রভৃতি গ্রামে তৈরি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন টাঙ্গাইল শাড়ি।

সংসারের বাড়তি আয়ের আসায় এ কাজে নিয়জিত হয়েছেন পরিবারের নারীরাও। কেউ সুতা ছিটায় উঠানো, কেউ সুতা পাড়ি করা আবার কেউ সুতা নাটাইয়ে উঠানোর কাজ করছেন।

এবারের ঈদ ও পূজায় এ তাঁতপল্লীর আকর্ষণে রয়েছে হাইব্রিট, জামদানি, বালুচুরি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, গ্যাস সিল্ক, ডেঙ্গু, শপসিল্ক, রেশম, তশর, ফোরফ্লাই, কাতান, শাপাইরা, একতারি, দোতারি, মনপুরা, এমব্রয়ডারী, স্টাইপ, কুচি ইত্যাদি।

শাড়ি তৈরির কারিগর জহির জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে শাড়ি উৎপাদন অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। ঈদের পরে পনের দিন আমরা শাড়ি বুনন কাজ করিনা। তাই দিন-রাত শাড়ি তৈরি করে যাচ্ছি।

Tangail

এ প্রসঙ্গে করটিয়া হাটের শাড়ি ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া বলেন, হাটে শাড়ি বিক্রি একেবারেই কম। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোতে শাড়ি বিক্রি হচ্ছেনা তাছাড়াও ঈদুল আয্হায় মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা কুরবানির পশু কেনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে তাই আমাদের শাড়ি বিক্রিও কম হয়।

টাঙ্গাইল সমবায় মার্কেটে আসা ক্রেতা নিলুফা বেগম জানান, এ ঈদে কাপড় কেনার চাহিদা অনেকটাই কম থাকলেও দুই একটি তো কিনতে হয়। তাই নিজের জন্য একটি হাফ সিল্ক শাড়ি কিনেছি। একটি দোতারি শাড়ি কেনার জন্য অপেক্ষা করছি। শাড়িগুলো বেশ নতুনত্ব ডিজাইনে এসেছে।

পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী আলম খান বলেন, আমাদের শাড়ির শোরুমগুলোতে আশানরুপ শাড়ি বিক্রি হচ্ছেনা। শেষ সময়ে এসে চরম মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। পূজোর সময় কিছুটা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেট (২) এর সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ জানান, এবারের ঈদে একতারি, দোতারি ও মার্সাইজ শাড়ির চাহিদা বেশি। ঈদুল ফিতরের চেয়ে ঈদুল আয্হায় বেচাকেনা একটু কম হলেও ব্যবসা খারাপ হচ্ছে বলা যাবে না। পূজোতে শাড়ির ব্যবসা ভালো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।