নামের মিল থাকায় গ্রেফতার!


প্রকাশিত: ০৩:৩৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৬

তিনি কোনো মামলার আসামি নন। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতও নন। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তারপরও বিনা অপরাধে চার দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে ইদ্রিছ আলীকে। পুলিশের ভুলে অহেতুক ইদ্রিছকে জেল খাটতে হয়।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা বারঘর গ্রামের মৃত ছয়বালীর ছেলে ইদ্রিছ আলী। রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ইদ্রিছ।

গত ২৫ নভেম্বর বাড়িতে আসেন ইদ্রিছ আলী। এসময় পাকুন্দিয়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার দাস তাকে গ্রেফতার করে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি পাকুন্দিয়া সহকারী জজ কাম পারিবারিক আদালতে দায়ের হওয়া (মামলা নং- ৪৫/১৪) একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বাদী একই গ্রামের তসলিমা আক্তার জানান, মামলার আসামি চরকাওনা মনিয়ারীকান্দা গ্রামের মৃত ছয়বালীর ছেলে ইদ্রিছ আলী। পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে, তার বাড়ি হচ্ছে চরকাওনা বারঘর গ্রামে। তিনি আসামি নন।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শামীম প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার না করায় পাকুন্দিয়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার দাসকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বললেও তিনি তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার শামীম জানান, ‘থানার এএসআইকে বলা হয়েছে যে এই ইদ্রিস মূল আসামি না। তাকে ছেড়ে দিন। কিন্তু এএসআই সঞ্জয় আমার কথা না শুনে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।’

পাকুন্দিয়া সহকারী জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী জজ সুলতান উদ্দিন প্রধান মঙ্গলবার রিকশাচালক ইদ্রিছ আলীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে রিকশাচালক ইদ্রিছ আলীকে গ্রেফতার করা হয়, ওই মামলার প্রকৃত আসামি চরকাওনা মনিয়ারীকান্দা গ্রামের মৃত ছয়বালীর ছেলে ইদ্রিছ আলী দীর্ঘ সাত মাস আগেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গত ১৪ মার্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

জামিনের বিষয়টি (স্মারক নং- ৪৮, তারিখ- ১৪/৩/১৬) চিঠি দিয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। অবগতি পত্রটি ১৬/৩/১৬ তারিখ কং মামুন গ্রহণ করেন। রি-কল দেয়ার সাত মাস পর রহস্যজনক কারণে ওই মামলায় অন্য একজনকে (রিকশা চালক ইদ্রিস) গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের এএসআই সঞ্জয় কুমার দাস জানান, ‘নাম এবং বাবার নাম একই হওয়ায় ভুল করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানতে পারি মামলার মূল আসামি জামিনে মুক্ত আছেন। কিন্তু থানায় জামিনের রি-কল আছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল-মামুন জানান, ‘গতকাল (২৮ নভেম্বর) আমাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে থেকে ফোন দেয়া হয়েছিল। আমি এএসআই সঞ্জয়কে এ ব্যাপারে আদালতে যোগাযোগ করতে বলেছি।’

নূর মোহাম্মদ/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।