সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস আজ


প্রকাশিত: ০৫:১৫ এএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬

সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয় সাতক্ষীরা। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ওড়ানো হয় লাল সবুজের পতাকা। পাক হানাদার ও তাদের দোসরারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল বাঙ্গালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু সফল হয়নি তারা। বাঙ্গালির পুরোনো ও ভাঙাচোরা থ্রি নট থ্রির গুলি আর লাঠিতে পরাস্থ হয় পাক বাহিনী।

কথিত রয়েছে সাতক্ষীরার সন্তানরা ৫০টি যুদ্ধের মোকাবেলা করেছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তান বিরোধী মিছিলে রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে আব্দুর রাজ্জাককে। আর সেখান থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার দামাল ছেলেদের যুদ্ধে অংশ নেওয়া।

ভোমরা এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার একটি ঘটনা বর্ননা করে তিনি বলেন, যুদ্ধ চলছে এমন সময় সহযোদ্ধার গুলি লাগলো। এক সময় বাধ্য হয়েই তাকে ফেলে চলে আসতে হয় আমাদের। সে অবর্ণনীয় কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ সাতক্ষীরায় সংগঠিত হওয়া যুদ্ধ গুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে অপর মুক্তিযোদ্ধা এমএ বারি জানান, সাতক্ষীরা ট্রেজারি হতে অস্ত্র লুট আর ন্যাশনাল ব্যাংক হতে টাকা লুটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম। ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৭ মে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

এতে দুই শতাধিক পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন ৩ মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন ২ জন। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী।

satkhira

তিনি আক্ষেপ ও অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, সাতক্ষীরার কালেকটর ভবনের মধ্যে যে স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে সেখানে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুক্তিযোদ্ধার পাশে রাজাকারের নামও রয়েছে।

৩০ নভেম্বর সাতক্ষীরা পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দেওয়ার পর পাক বাহিনী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। পিছু হটতে শুরু করে পাক সেনারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তি বাহিনীর হামলা আর দাপটে টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে সাতক্ষীরা ছাড়ে পাক বাহিনী। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরা।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা বর্ণনা করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসনে মশু জাগো নিউজকে জানান, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পাক হানাদার মুক্ত হয়। সেখান থেকেই ৭ ডিসেম্বরকে সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

৭ ডিসেম্বর পাক সেনারা সাতক্ষীরা ছেড়ে যশোর অভিমূখে যাত্রা করে। তারপর মুক্তিযোদ্ধা ও আপমর জনতা রাজ্জাক পার্কে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।