নির্ধারিত সময়ের আগেই বাউবির এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ!


প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীন চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বিষয়ের নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৩ ডিসেম্বর। কিন্তু কেন্দ্র সচিব সেই পরীক্ষা নেন গত শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর! এমন তুঘলকি কাণ্ড ঘটলেও পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বা থানা থেকে প্রশ্নপত্র নেয়ার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা কিছুই জানে না!

কিশোরগঞ্জের নিকলী শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। রাতে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে থাকা নিকলী শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষা সচিবের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ছিল ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে নিকলী শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সাফি উদ্দিন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বা অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে না জানিয়ে নিকলী থানায় পুলিশ হেফাজত থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেন। পরীক্ষায় ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন অংশ নেয়।

এদিকে রাতে এ ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সারাদেশে একযোগে চলা বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত দিনের আগে নেয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া জানান, ‘পরীক্ষা ছিল আগামী ২৩ ডিসেম্বর। কিন্তু কেন্দ্র সচিব কাউকে না জানিয়ে শুক্রবার ওই বিষয়ের পরীক্ষা নেন। বিষয়টি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে  জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পী জানান, ‘প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। থানা থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তিনি আমাকে না জানিয়ে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেন। তাকে প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। রাতেই ঘটনার তদন্ত করে বোর্ড নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্বে থাকা নিকলী শহীদ স্মরণিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাফির উদ্দিন জানান, ‘প্রথমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষার তারিখ ছিল ৯ ডিসেম্বর। পরে তারিখ পরিবর্তন করে ২৩ ডিসেম্বর করা হয়।

এ বিষয়ে বোর্ড থেকে চিঠিও পাই। কিন্তু ভুল করে ৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেয়া হয়।’ পরিবর্তিত সময়সূচির চিঠি পাওয়ার পরও আগে পরীক্ষা নেয়া এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতিকে না জানিয়ে থানা থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, ‘প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবের গাফিলতির বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

অন্যদিকে বাউবির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নোমান আলম জানান, নির্ধারিত তারিখের আগে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। এটি কোথায় যদি হয়ে থাকে সেটি অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। উপজেলা পর্যায়ে যেহেতু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সেহেতু তার কাছ থেকে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হবে। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি প্রশ্নের সেট প্রস্তুত করা হয়। সেহেতু নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেয়া হবে।

নূর মোহাম্মদ/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।