তরুণীর আত্মহত্যা : অপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া আ.লীগ নেতারা


প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সালিশের নামে মারধরের অপমান সইতে না পেরে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার এ ঘটনাকে মিথ্যে ও বানোয়াট উল্লেখ করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে নির্দোষ দাবি করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তালা-কলারোয়া এমপি অ্যাড. মুস্তফালুৎফুল্লাহ, কলারোয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনসহ আওয়ামী লীগ নেতারা।

দুপুরে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফিরোজ কামাল শুভ্র, আরাফাত হোসেনসহ স্থানীয় আ.লীগ নেতৃবৃন্দ।

তাদের দাবি, দড়ি দিয়ে বেঁধে মেয়েটিকে বাজার ঘোরানোর মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া মেয়েটির উপর কোন নির্যাতন করা হয়নি। উদ্দেশ্যেমূলকভাবে মামলা দিয়ে নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তরুণীর ভাই ইব্রাহিম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় শনিবার রাতে আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, চৌকিদার ইসমাইল হোসেন ও জয়দেব কুমার দাশকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ বলেন, আপত্তিকর সম্পর্কের অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের আফরোজা খাতুন (১৬) নামের এক কিশোরী ও এক কিশোরকে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল ইসলামের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে সোনাবাড়িয়া গ্রামের আফরোজা খাতুন (১৭) নামে ওই তরুণী শুক্রবার রাতে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে নারী মুক্তি সংসদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি এমপির স্ত্রী নাছরিন খান লিপি বলেন, সালিশ করার পরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি আমি জেনেছি। সংগঠনের সকলে একত্রে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো এ বিষয়ে কী করা যায়। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানিয়ে জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি তারাময়ী মুখার্জী জানান, এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছে।

যতই প্রবাভিত করার চেষ্টা করুক কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক শেখ জাগো নিউজকে বলেন, মামলার পর প্রধান আসামি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামসহ চৌকিদার ইসমাইল ও বখাটে পলাশকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আকরামুল ইসলাম/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।