সেই চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার আফরোজা খাতুন আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গ্রেফতার হওয়া সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
রোববার বিকেলে কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তির পর সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাকে সংর্বধনা দেয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফালুৎফুল্লাহ। এসময় আফরোজা আত্মহত্যায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই দিন একটি ছেলে মেয়ের আপত্তিকর অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনরোষ থেকে বাঁচাতে চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তাদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনতে বলেন।
তবে তিনি বেঁধে আনতে বলেননি। অতি উৎসাহের কারণে হাসানসহ কয়েকজন তাকে বেঁধে নিয়ে আসে। এটা দুঃখজনক ও মানবতার লঙ্ঘন। মেয়েটি অপমাণিত হওয়ার এটি একটি বড় কারণ। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার নুরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মনি, আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ সরদার, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহিম, প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান বিপ্লব, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, জামাই সিরাজ, কাজল মেম্বার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, চেয়ারম্যানের মুক্তির পর তার সমর্থিত ক্যাডাররা সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্যকে মারধর করার জন্য খুঁজছে।
ইউপি ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বর রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাবলু কোরবানের ছেলে মজনু দালাল, রওশনের ছেলে বাবলু সরদার, আহম্মদ আলীর ছেলে আবুল কালাম গাজী তাকে মারধর করার জন্য বাজারে খোঁজাখুঁজি করছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। খোঁজাখুঁজির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান মনে করেন আমি তার বিরোধী লোক।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক শেখ জাগো নিউজকে বলেন, মারপিটের জন্য খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে বিষয়টি আমি জেনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উত্তেজিত হয়ে কোনো নিরাপরাধ মানুষের ওপর কেউ হামলা চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সোনাবাড়িয়া বাজারে হাসানের দোকানে ফ্লাক্সিলোড দিতে গেলে পার্শ্ববর্তী বারেকের মোড় এলাকার মৃত. নুর মোহাম্মদের মেয়ে আফরোজা খাতুনকে (১৬) আপত্তিকর অভিযোগ এনে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাজার ঘোরানো হয়। এসব ছবি ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়া হয় ফেসবুকে। এ ঘটনায় আপমাণিত হয়ে পরদিন শনিবার আত্মহত্যা করে আফরোজা খাতুন।
এ ঘটনায় আফরোজার ভাই ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করার পর গ্রেফতার হন সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, চৌকিদার ইসমাইল হোসেন, ফ্লাক্সিলোড দোকানদার হাসান ও ছবি ফেসবুকে আপলোডকারী জয়দেব কুমার। গ্রেফতার বাকি তিনজন কারাগারে রয়েছেন।
আকরামুল ইসলাম/এআরএ/পিআর