তার্কিস মুরগি পালনে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মিজানুর


প্রকাশিত: ০৩:০২ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

সাতক্ষীরায় তার্কিস মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ২২ বছরের যুবক মিজানুর রহমান। শুধু তিনি নিজে নন বরং ঘুরে দাঁড়িয়েছে মিজানুরের পরিবার।

অভাব অনটনে দিন চলতো দুই বছর আগেও। তার্কিজ মুরগি পালন করে বর্তমানে নির্মাণ করেছেন পাঁকা ঘর, কিনেছেন দুই বিঘা জমিও, বাবাকে কিনে দিয়েছেন একটি ইজিবাইক। সব মিলিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এই পরিবারটির গল্প তার্কিজ মুরগিকে ঘিরেই। এখন আর অভাব নেই এই পরিবারের।

দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা রোজগার করছেন মিজানুর রহমান। এ মুরগি পালনে সহায়তা করেন মিজানুরের মা রেবেকা খাতুন। বাড়ির কাজকর্মের পাশাপাশি তিনি দেখাশুনা করেন মুরগিগুলো।

murgi

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রাহ্মরাজপুর ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামের মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, দুই বছর আগে ঢাকার টঙ্গির বাজার থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া তার্কিস মুরগি কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন। দুই মাস পালনের পর খুলনার এক ব্যবসায়ী এক জোড়া মুরগি ৮ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায়।

মিজানুর ও তার পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানো গল্পের শুরু এখান থেকেই।

মিজানুর রহমান বলেন, এরপর আবার ঢাকার টঙ্গি থেকে মুরগি নিয়ে আসি। এরপর খুলনা ও যশোর থেকে ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। এক জোড়া বাচ্চা দুই হাজার টাকায় কিনলে তিনমাস পরে তা ৮-১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতারা বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। বিক্রির জন্য কোথাও যেতে হয় না।

৬ মাস পর পর ডিম দেয় এ মুরগি। একজোড়া ডিম বিক্রি হয় ৮শ টাকায়। এছাড়া মাংসও খাওয়া যায়। মুরগির রং হিসেবে দামও কমবেশী হয়। রয়েল কালারের মুরগির দাম বেশী। এক জোড়া রয়েল কালারের মুরগি ১২-১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এক জোড়া বাচ্চা বিক্রি হয় ২৫শ টাকায়। অনেক সময় শখ করেও অনেকে কিনে নিয়ে যায় পালনের জন্য।

murgi

তিনি আরো বলেন, যশোর, খুলনা, চট্রগাম ও কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে নগদ টাকায় মুরগি কিনে নিয়ে যায়। এদের রোগ বালাইও হয় না।

সফলতা হিসেবে মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত দুই বিঘা জমি কিনেছি। বাবাকে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়েছি। মাঝে মধ্যে আমিও চালায়। আর একটি পাঁকা বাড়ি তৈরি করেছি।

মিজানুরের মা রেবেকা খাতুন বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি এদের খাবার দিতে আমার কোনো কষ্ট হয় না। এদের বাড়তি কোনো খাবার লাগে না। পল্ট্রি ফিড ও ঘাস কেঁটে দেই প্রতিদিন।

murgi

এ মুরগি পালন করে বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন উল্লেখ করে মিজানুর রহমানের বাবা সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, খুব ছোট পরিসরের খামার হলেও এখন আর আমাদের অভাব নেই। সংসার ভালো মতোই চলছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খামারটি আরো বড় পরিসরে করতে পারবো। যেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, সাতক্ষীরার অনেক যুবকই টার্কিস মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের কোনো পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ সহায়তার প্রয়োজন হলে সেগুলো অবশ্যই করা হবে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।