‘শশই’ যেন মৃত্যুকূপ


প্রকাশিত: ০৮:১৩ এএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অংশে। জেলার আশুগঞ্জ থেকে বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ এলাকা পর্যন্ত সড়কে বেশ কয়েকটি বিপদজনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁক অতিক্রমের জন্য নির্দিষ্ট গতিসীমা বেঁধে দেয়া হলেও বেশ কয়েকটি পরিবহন সেই গতিসীমা লঙ্ঘন করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এতে করে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

তবে বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকাটি সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ। শশই এলাকাটি দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্পট হিসেবেও পরিচিত অনেকের কাছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র শশই এলাকায় তিনটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় বাড়ছে পঙ্গুত্বের সংখ্যাও।

হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়কে যে কোনো বাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কি.মি. নির্ধারণ করা থাকলেও ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাসগুলো সেই গতিসীমা লঙ্ঘন করে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিদপদজনক বাঁকগুলো সতর্কতার সঙ্গে অতিক্রম করার নির্দেশনা দেয়া থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করছেন না অনেক চালকই।

এছাড়া শশই এলকার সড়কটি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রশস্ত ও নির্জন হওয়ায় সেখানে অধিক গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিং হয় সবচেয়ে বেশি। এর ফলে প্রায়ই শশই এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা।

Shoshoi

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শশই এলাকায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অপর একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৮ জন নিহত ও ৫ জন গুরুতর আহত হন।

গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শশই এলাকায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অপর একটি একটি মাইক্রোবাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবারও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শশই এলাকায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা মাধবপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থালেই অটোরিকশার চালক ও দুই আরোহী নিহত হন। পরে গুরুতর আহত এক এক নারী মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান।

শশই এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক জিয়াদুল হক জানান, ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী সবগুলো বাসই বেপরোয়া গতি চলাচল করে। বেপরোয়া গতি আর ওভারট্যাকিংয়ের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সবেচেয় বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় এনা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ও মামুন পরিবাহনের বাসগুলো।

শশই এলাকায় মহাসড়কের পাশে কোনো হাট-বাজার বা ঘনবসতি না থাকায় বাসগুলো এখানে ওভারটেকিং বেশি হয়ে থাকে। মূলত ওভারটেকিং করতে গিয়েই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

Shoshoi

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও চালকরা সেই সীমা লঙ্ঘন করে যাত্রীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান।

শশই এলাকায় এনা পরিবহনের বাসচাপায় ৮ জন নিহত হওয়ার সময়ও বাসটির গতিসীমা প্রায় ১০০ কি.মি. ছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

 এ ব্যাপারে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসগুলো খুব কম দুর্ঘটনার শিকার হয়। সবেচেয় বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয় ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাসগুলো।

তিনি বলেন, শশই এলাকায় দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে আমরা আমাদের বাস চালকদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি। দ্রুত গতিতে গাড়ি না চালানো এবং ওভারটেকিং বন্ধ করলেওই দুর্ঘটনার হার কমে যাবে।

এ ব্যাপারে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য গাড়ি চালকদের অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে। বেপরোয়া গতি আর ওভারটেকিং বন্ধ করলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার হারও কমে আসবে। তবে যেসব গাড়ি অধিক গতিতে চলে আমরা সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিচ্ছি।

এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।