দিনাজপুরে ৩ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭

দিনাজপুরে জেএমবির সুরা সদস্য ও সামরিক কমান্ডার ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী ৬ মার্চ অপর তিন সাক্ষীকে হাজির করতে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে আল-আমীন বীমা অ্যান্ড ইসলামিক ইন্সুরেন্সের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোস্তাকিম বিল্যা হত্যা মামলায় সাক্ষগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

দুপুরে মামলার অন্যতম আসামি জেএমবির সুরা সদস্য ও সামরিক কমান্ডার ময়নুল ওরফে ভাগ্নে শহীদকে পুলিশের কড়া প্রহরায় আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. আজিজুর রহমান জানান, এ মামলার নিহত মোস্তাকিম বিল্লার মা ফাতেমা খাতুন (৬৫) ও তার সৎ মা নুর জাহান বানুর (৫০) মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বিচারক। দুপুরে ভাগ্নে শহীদকে কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে আদালতের বিচারক ওয়ালিউল ইসলাম আগামী ৬ মার্চ মামলার চার্জশিটের তালিকাভুক্ত সাক্ষী সুলতানা রাজিয়া, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রাজ্জাকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

জানা যায়, ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, নাশকতা, অস্ত্র বিস্ফোরক ও জঙ্গি সংক্রান্ত ঘটনায় ১৪টি মামলার তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলার অপর আসামি বদরুন্নাহার স্থান ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপণে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সওগুনখোলা গ্রামের আব্দুস সামাদ লাহেড়ীর কন্যা বদরুন্নাহার হিমু দিনাজপুর সরকারি কলেজে লেখাপড়া করতো।

২০০৮ সালের জুন মাসে জেএমবির সুরা সদস্য আনোয়ার আলম ওরফে খোকা ওরফে নামজুল ওরফে তুহিন ওরফে ময়নুল ওরফে ভাগ্নে শহীদের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে বিয়ে এবং স্বামী-স্ত্রী দুইজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

লিমুর বড় ভাই নিহত মোস্তাকিম বিলাহকে জেএমবির কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। ওই টাকা জেএমবির কর্মকাণ্ডে প্রদান না করে মোস্তাকিম বিলাহ আত্মসাতের পরিকল্পনা করায় গত ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর নামক স্থানে পাকা রাস্তার পাশে আসামিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এই ঘটনায় নিহতের মামা মো. আব্দুলাহ বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।