শাজাহানপুর থানা পেল নতুন ভবন


প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় বগুড়ার শাজাহানপুর থানা। সেই সময় সেনাবাহিনীর সহায়তায় রক্ষা পায় পুলিশের অস্ত্রাগার। সেটি ২০১৩ সালের কথা। জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসাইন সাঙ্গদীকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে জামায়াত-শিবির এ তাণ্ডব চালায়। সেদিন পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়।

টিনের চালাওয়ালা ভাড়া বাসায় স্থাপন করা সেদিনের থানাটি ছিল অরক্ষিত। তবে ওই ঘটনার পরই সরকারের টনক নড়ে। এখন সেই শাজাহানপুরকে দেয়া হলো নতুন থানা ভবন। প্রায় ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক বহুতল এ থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাজাহানপুরের এই থানা ভবনটি উদ্বোধন করবেন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে বগুড়া সদর উপজেলার দক্ষিণের ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় শাজাহানপুর উপজেলা। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় শাজাহানপুর থানা। উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে একটি ভাড়া বাসায় শুরু হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম।

কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় নানামুখি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। অস্ত্রাগার নিয়ে ভয়ের শেষ নেই। স্থান সংকটে চেয়ার-টেবিল রাখা যায় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার পরিবেশ নেই। পুুরুষ সদস্যদের ছোট ব্যারাকে থাকতে হয় ঠাসাঠাসি করে। নারী সদস্যরা থাকেন আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে।
 
পনের বছর আগে শাজাহানপুর উপজেলা গঠনের পর একটি জীর্ণশীর্ণ ভাড়া বাসায় চলছিলো পুলিশের কার্যক্রম। এখন উদ্বোধনের পর ভাড়া বাসা ছেড়ে নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে সকল কার্যক্রম। ইতি ঘটবে টানা পনের বছরের দুর্ভোগের।
     
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক লাগোয়া উত্তরে এক একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল নতুন এ থানা ভবন। পুরনো ভাড়া ও নতুন ভবনের প্রায় মাঝখানে অবস্থান অত্যাধুনিক উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন।

শাজাহানপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাছউদ চৌধুরী জানান, পুলিশের পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি থাকবে না। তাদের কাজের গতিও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।

মেসার্স মাসুমা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহুতল এ থানা ভবন নির্মাণের কাজ করছে। ভবনে থাকছে পুলিশ অফিস, ওসি, অন্যান্য কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও বেতার কক্ষ ও অস্ত্রগার। নারী-পুরুষ সদস্যদের জন্য থাকছে আলাদা ব্যারাক। থাকছে চারটি হাজতখানা। এখানে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী হাজতিরা থাকবেন। নামাজ ঘর, ফার্স্ট এইড কক্ষের সুবিধা থাকবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় থাকছে থানা ক্যাম্পাসে ওসি ও এসআইদের জন্য পৃথক আবাসিক ভবন নির্মাণ। সব মিলিয়ে নবনির্মিত এ ভবনে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।  

এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।