মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তালাবদ্ধ করে বাদপড়াদের বিক্ষোভ


প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বগুড়ার শেরপুরে যাচাই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তালাবদ্ধ করে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধারা। বিক্ষোভকালে যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের পুনরায় যাচাই-বাচাই তালিকা চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি। এতে ২৫৫ জন বাদ পড়েন।
 
জানা গেছে, সম্প্রতি শেরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আওতাধীন সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত ১৮৯ জন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পুনরায় চূড়ান্ত তালিকা প্রাপ্তির সাপেক্ষে অনলাইন আবেদনকৃত ১৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কমিটির ৭ সদস্যের কমিটি।

কমিটির সভাপতি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম সরোয়ার জাহান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিনিধি আব্দুস সোবাহান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)’র প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, মোফাজ্জল হোসেন, নরোত্তম সরকার ও বর্তমানের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওবায়দুর রহমান।
 
অভিযোগ করা হয় যে, যাচাই-বাছাইকালে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান তার ব্যক্তিগত সহকারী ফরহাদুজ্জামান শাহীনের সমন্বয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত যাচাই সংক্রান্ত নীতিমালার প্রজ্ঞাপণ উপেক্ষা করেন। তিনি উপজেলার সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্টসহ (গেজেট তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, সবুজ মুক্তিবার্তা) অন্যান্য কাগজপত্র না দেখেই গেজেটভুক্ত ১২০ জনের মধ্যে ১৭ জন, লাল মুক্তিবার্তায় ৬৯ জনের মধ্যে ৫৩ জন ও অনলাইনে আবেদনকৃত ১৩৭ জনের মধ্যে ১ জনসহ মাত্র মোট ৭১ জন মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত তালিকার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার সহকারী পরিচালক আব্দুর রউফ খানসহ ভাতাপ্রাপ্ত ও অনলাইন আবেদনকৃত ২৫৫ জন বাদ পড়ে।

আর এসব নিয়েই সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ কারণে মঙ্গলবার তারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকালে তারা যাচাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
 
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সদ্য বাদ পড়া বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মজিবর রহমান মজনু বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের সময় শেরপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ করে গেজেটভূক্ত হলেও আমাকেসহ অন্যান্যদের বাদ দেয়া হয়েছে। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তি আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই কমিটির সভাপতি বগুড়া-৫ এর সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পুনঃ যাচাই কল্পে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দেয়া সার্কুলার অনুযায়ী যাচাই-বাচাই কমিটির অন্যান্যদের পরামর্শক্রমে তালিকা করা হয়েছে। যদি কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে থাকেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আদালত রয়েছে, আশ্রয় নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো কিছু করা হয়নি।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।