দিনাজপুরে ট্রাকসহ ২ কোটি টাকার কাপড় ছিনতাই
দিনাজপুর চিরিরবন্দরের ব্যবসায়ীদের বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকায় ২ কোটি টাকার কাপড়সহ ট্রাক ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।
চিরিরবন্দর রাণীরবন্দর ব্যবসায়িক সমিতি এই অভিযোগ করে বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ।
জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল রোববার সিরাজগঞ্জ শাহাজাদপুর উপজেলার বেসিক মোড় থেকে রাত ১১টায় ঢাকা মেট্রো ১৮০৪৬০ নং ট্রাক ২ কোটি টাকার কাপড় ও মালামাল নিয়ে রওনা দেয়। বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকায় রাত ২টায় ৬০টি কাপড়ের বেলসহ ট্রাকটিকে ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনার পরের দিন ১০ এপ্রিল সোমবার সকাল পর্যন্ত ট্রাকে থাকা লাইন ম্যানের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা কোনো যোগাযোগ করতে না পারলে ট্রাক ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
পরে ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে নাটোর জেলার সিঙ্গাড়া উপজেলায় রাস্তার পাশে খালি ট্রাক পড়ে থাকতে দেখলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করে।
ট্রাকের ড্রাইভার, হেলপার, লাইনম্যানের ওদিন কোনো সন্ধান পাওয়া না গেলেও গতকাল বুধবার ড্রাইভার, হেলপার, লাইনম্যানেকে আহত অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ড্রাইবার মো. আনিছ হোসেন ও লাইনম্যান তৈহিদুর জামান বলেন, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলায় হাইওয়ে ব্রিজের উপরে আসলে আমাদের আটক করে একদল দুর্বৃত্ত। অপর একটি খালি ট্রাক সামনে এসে আনুমানিক ২০ জনের একটি দল আমাদের ট্রাক থেকে নামিয়ে মারধর করে ট্রাক নিয়ে চলে যায়।
এ ছিনতাইর ঘটনায় চিরিরবন্দর রানীরবন্দর ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। ট্রাকে রানীরবন্দরের ব্যবসায়ী রুস্তম অ্যান্ড সন্সের ১৫ লাখ টাকা, মমতাজ গার্মেন্টসের ৬ লাখ টাকা, ওহিদুল গার্মেন্টসের ২ লাখ টাকা, আব্দুল রহমান গার্মেন্টসের ২ লাখ টাকা, হাচেন গার্মেন্টসের ২ লাখ টাকা, সৈয়দপুর আনোয়ার গার্মেন্টসের ১০ লাখ টাকা, আবিদ গার্মেন্টসের ১৪ লাখ টাকা, ডোমার ডিমলা গার্মেন্টসের ৮ লাখ টাকা, ঠাকুরগাঁও গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর ১২ লাখ টাকা ছাড়াও পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী গার্মেন্টসের ব্যবসায়ীদের কাপড়সহ প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
কাপড় ব্যবসায়ী মো. মমতাজ আলী বলেন, রাস্তায় কাপড় আনতে এতো বড় ঝুঁকি থাকলে গার্মেন্টসের মালিকরা দূর থেকে কাপড় এনে ব্যবসা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
রাণীরবন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ সেকেন্দার আলী জানান, এমন ছিনতাইর ঘটনা কখনো ঘটেনি, এতো বড় লোকসান হলে ব্যবসায় টিকে থাকা মুশকিল হবে। এ ঘটনায় বগুড়া শাহাজাদপুর থানা ও শিবগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে বগুড়া শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহিদ হাসান বলেন, ওই এলাকায় আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া ব্রিজের উপরে ৫ মিনিটের জন্য ব্যারিকেড দিলে পেছনে বগুড়া জেলা শহর পর্যন্ত শতাধিক গাড়ির জ্যাম লেগে যায়। ব্রিজের উপরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয় না।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম