রামগঞ্জে আ.লীগ নেতাসহ দু’জনকে পেটালো পুলিশ !


প্রকাশিত: ১১:০৬ পিএম, ১২ মে ২০১৭
ছবি : জাগো নিউজ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মো. ইব্রাহিম কারী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাগ্নেকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বেদম পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় দুইজনকেই শুক্রবার (১২ মে) দিনগত রাত ১২ টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

আটক ইব্রাহিম উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হোসেন মো. রানার ভাই। আর তার ভাগ্নের নাম মো. কাওছার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাপুর এলাকায় সন্ধ্যে সোয়া ৭ টার দিকে মাদক বিরোধী চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম ও তার ভাগ্নে কাওছার মোটর সাইকেলে করে ওই রুট দিয়ে যাচ্ছিলেন। থামানোর জন্য পুলিশ ইশারা দিলেও তারা থামেননি। পরে ধাওয়া দিয়ে কাটাখালীতে গিয়ে মোটরসাইকেলসহ তাদের আটক করা হয়।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মামা-ভাগ্নেকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। পরিচয় দেয়ার পরও ক্ষান্ত হয়নি তারা। পরে থানায় এনেও কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে একই কায়দায় বেদম পেটানো দুইজনকে।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হোসেন রানা বলেন, ‘আমার ভাই ও ভাগ্নে পরিচয় দেওয়ার পরও হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দুই দফায় পিটিয়েছে পুলিশ। নির্যাতনে তাদের মুখ, ঠোঁট, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত ও জখম হয়ে গেছে। পুলিশের অমানবিক এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

এদিকে মারধরের সময় আটক ইব্রাহীমের পকেটে পুলিশ ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করেছেন আহতদের স্বজনরা।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ। তিনি দাবি করেন, ধস্তাধস্তিতে পড়ে গিয়ে তারা আহত হয়েছে। পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করায় পেছন থেকে ধাওয়া করে দুইজনকে ধরা হয়েছিল। সমাধানের পর তারা কেন, হাসপাতালে ভর্তি হল বুঝতে পারছি না। পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টার বিষয়টিও মিথ্যা।

এদিকে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে থানায় ছুটে যান ইউপি চেয়ারম্যান রানা। এ সময় তার সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা ও পরে পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ।

খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিনসহ দলের সিনিয়র নেতারা থানায় ছুটে যান। সেখানে ওসির কক্ষে বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে ওসি তোতা মিয়া ক্ষমা চান এবং লিখিত দিয়ে আটকদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন উপস্থিত সিনিয়র নেতার।

বিষয়টি ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান বলেন, থানায় বৈঠকে পুলিশ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া বলেন, ঘটনাটি থানায়  মীমাংসা করা হয়েছে। হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আনা হয়েছে সত্য, তবে মারধর করা হয়নি। কাগজপত্র না থাকায় মোটর সাইকেলটি থানায় রাখা হয়েছে।

এমএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।