বিনাদোষে ফের কারাগারে রফিকুল


প্রকাশিত: ০৯:৪৪ এএম, ২০ মে ২০১৭

নাম আর গ্রাম এর মিল থাকায় বিনা দোষে মারধরের মামলায় ৬ দিন ধরে জেল হাজতে রয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ (ভূইয়াপাড়া) গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলাম।

কারাগারে থাকা রফিকুল ইসলাম (৪৪) উপজেলার চতলবাইদ (ভূইয়াপাড়া) গ্রামের মৃত ঠান্ডু মিয়ার ছেলে। গত ১৪ মে তাকে গ্রেফতার করে সখীপুর থানা পুলিশ। আজ শনিবার পর্যন্ত ছয়দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ (ভূইয়াপাড়া) গ্রামের মৃত ঠান্ডু মিয়ার ছেলে দিনমজুর রফিকুল ইসলাম। শুধু গ্রাম ও নামের মিল দেখে গত ১৪ মে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং ১৫ মে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায়।

আদালত এ মামলায় জামিন না মঞ্জুর করে রফিকুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রফিকুল কারগারে থাকায় চার সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী নাজমা বেগম অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

গত ২০১৫ সালের ১৪ মে একই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে সখীপুর থানা পুলিশ এবং পরে তাকে আদালতে নেয়া হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার বাদী সায়েজ উদ্দিনের সহায়তায় রফিকুল ওই বছর ১৬ মে তিন দিন কারাভোগের পর মুক্তি পান।

মামলার বাদী উপজেলার গজারিয়া গ্রামের সায়েজ উদ্দিন বলেন, ২০১৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ক্যারাম খেলা নিয়ে উপজেলার চতলবাইদ গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৫) তার ভাগ্নে খায়রুলের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পরের দিন তিনি বাদী হয়ে রফিকুল ও আরও একজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

গত ২০১৫ সালের ১৪ মে পুলিশ যে রফিকুলকে গ্রেফতার করে তার বাবার নাম ঠান্ডু মিয়া। কিন্তু পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে মূলত এই রফিকুল ঘটনার প্রকৃত আসামি ছিলেন না। পরে আমার সহযোগিতায় তিনি ছাড়া পান।

এবারও একই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। আবারও রফিকুল বিনাদোষে কারাভোগ করছেন। বিষয়টি অতি দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, মামলার প্রকৃত আসামির নাম রফিকুল (২৫) হলেও বাবার নাম আবদুর রশিদ আর বাড়ির ঠিকানা চতলবাইদের ভাতকুড়া চালায়। এ ঘনায় ‘দোষী ব্যক্তি সাজা পেলে খুশি হতাম। নির্দোষ রফিকুলকে বাঁচাতে আমি গত বার সাক্ষী দিয়ে জেল থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম। প্রয়োজনে এবারও আদালতে সাক্ষী দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনবো।

এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, নাম-ঠিকানা মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা ভুল হয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মামলার বাদীকে থানায় ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন এবং এর সঙ্গে পুলিশের যদি কোনো গাফিলতি থাকে। সে বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা এই ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।