পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড
স্বামীর পরকীয়ায় বাধা হলো স্ত্রী। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর ওপর চালানো হলো অমানুষিক নির্যাতন। এক হাতের কব্জি কেটে ও এক চোখ নষ্ট করে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী।
ভুক্তভোগী নারী ময়না বেগম (৩০) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্বামী একই ইউনিয়নের যোগিন্দ্রপুর ছোট কুপট গ্রামের কুদ্দুস গাজীর ছেলে শাহিনুর গাজী (৩৫)।
অমানবিক কাজের উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন জানিয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েটার মামা আমার কাছে এসেছিলেন। ঘটনাটি ভারতে ঘটেছে। যদিও এখানে আমার পক্ষ থেকে কিছু করার নেই। তারপরও বলেছি একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য। এখান থেকে যতটুকু আইনি সেবা দেয়া সম্ভব তার সবটুকুই করা হবে। তবে বুধবার পর্যন্ত এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি তারা।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর কাজের সন্ধানে পরিবারসহ তারা ভারতে যায়। কিছু দিন আগে এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে গত ময়নাকে দেশে এনেছেন তার মামা মুজিবর রহমান।
ময়না বেগম জানান, ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভারতে কাজ করে সংসার চলছিল। হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম ভারতের একটি হিন্দু মেয়ের সঙ্গে স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা। এ নিয়ে কথা বলতেই আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় একমাস আগে স্বামী শাহিনুর গাজী হাত-পা বেঁধে লোহার শিক দিয়ে খুঁচিয়ে একটি চোখ নষ্ট করে দেয়। বাম হাতের কব্জি কেটে দেয়। এ সময় চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভারতের কলকাতায় হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, ময়না বেগমের পরিবার নির্মম ও নির্যাতনের জন্য শাহিনুর গাজীর দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানিয়েছেন।
আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর