পুষ্টির ফেরিওয়ালা কুদ্দুস


প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ১০ জুন ২০১৭

ছোট বেলা থেকেই মনে করতাম মানুষের উপকারে কাজে লাগে এমন কিছু করবো। বাবা ছিলেন গরীব মানুষ। লেখাপড়াটাও খুব বেশি করতে পারলাম না। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। গরীব হলেও মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ থেমে যায়নি।

অবশেষে বেছে নিলাম এই পথ। মানুষকে সুস্থ ও ভালো রাখতে বিষমুক্ত সবজি বিক্রি শুরু করলাম। বাড়ির আনাচে-কানাচে আর খালে বিলে জন্মানো সবজি তুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে মানুষের হাতে তুলে দিই। জাগো নিউজের সঙ্গে এসব কথা জানান সাতক্ষীরা শহরের বিষমুক্ত সবজি বিক্রেতা রুহুল কুদ্দুস।

তিনি শহরের তালতলা এলাকার মৃত. শুকুর আলীর ছেলে। দিনের বেলা শহরের অলিগলিতে ভ্যানযোগে ঘুরে ঘুরে বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করেন এই সবজি বিক্রেতা। ভ্যানটির নাম দিয়েছেন পুষ্টির ফেরিওয়ালা। রমজানের মাসে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন বিষমুক্ত সবজি।

বাড়ির গৃহবধূরা প্রয়োজন মতো ক্রয় করেন। এসব কথা জানিয়ে জাগো নিউজকে রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাত সাড়ে ৮টায় সাতক্ষীরা শহরের আমতলা মোড়, এরপর টাউন বাজার ও রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত থাকেন শহরের পাঁকাপোল এলাকার খান মার্কেটের নিচে।

sathkhira

 

বিষমুক্ত সবজি বিক্রেতা রুহুল কুদ্দুস এখন শহরের সকলের পরিচিত মুখ। কখন কোথায় তাকে পাওয়া যাবে সকলেরই জানা। সেজন্য নিজ প্রয়োজনেই অনেক সময় বিষমুক্ত সবজি ক্রয় করতে এসব জায়গাগুলোতে পৌঁছে যান ক্রেতারা।

বিষমুক্ত সবজি বিক্রেতা রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমার কাছে ২২ রকমের সবজি রয়েছে। যেসব সবজিগুলো সবই বাড়ির আনাচ-কানাচে বা বিল হাওড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। সেখান থেকে সারাদিন সবজিগুলো সংগ্রহ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সন্ধ্যায় ভ্যানযোগে বের হই মানুষের হাতে বিষমুক্ত সবজি তুলে দিতে। সামান্য কিছু টাকাও নিই। যে টাকায় আমার সংসার চলে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা রোজগার হয়।

সবজির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলমিলতা, শাপলা, কচু শাক, থানকুনি, প্রাম্মি, বউটুনি, ডুমুর, কলারমোচা, মোচার থোড়, সঞ্চি শাক, কুলফি, হেলাঞ্চ, গাধোমনি, পেপুলি, তেলাকচুসহ ২২ রকমের সবজি রয়েছে। যা সম্পূর্ণরুপে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্য সম্মত।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।