সুবর্ণচরে দাফনের ৪৩ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৭
নিহত মনোয়ারা বেগম মনি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দাফনের ৪৩ দিন পর মনোয়ারা বেগম মনি (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরীন ফেরদৌসির উপস্থিতিতে মরদেহটি কবর থেকে তোলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মনি উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল শহিদের মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী। বিগত ১৫ বছর আগে একই গ্রামের আবুল খায়ের বলির ছেলে মোহাম্মদ আলী সবুজের (৩২) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। 

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মনিকে নির্যাতন করতো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাম্য শালিসও হয়েছে। 

মনোয়ারা বেগম মনির বড় ভাই আবুল কালাম জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তার বোনকে বিভিন্ন সময় তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী  র্নিযাতন করতো। তাদের দাবি বারবার পূরণ করলেও তার বোনকে বাঁচতে দেয়নি তারা। অবশেষে গত ৫ মে তার বোন মনোয়ারা বেগম মনিকে শ্বশুর আবুল খায়ের বলি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সে রাজি না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়।  

এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রথমে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনদিন পর তারা জানায় মনি আত্মহত্যা করেছে। অভিযোগ থাকা সত্বেও  ময়নাতদন্ত ছাড়া তারা রাতের বেলায় গোপনে মরদেহ দাফন করে। তবে যারা  মরদেহের গোসল দিয়েছে তারা  মনির গায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে বলে নিশ্চিত করায় তিনি বাদী হয়ে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত মরদেহ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মামলার সঠিক তদন্তের স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মিজানুর রহমান/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।