সৌদিতে নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে আনার দাবি স্বজনদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৭:১০ এএম, ০১ আগস্ট ২০১৭

পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়ার অনেকে পারি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। কিন্তু বছর না যেতেই সড়ক দুর্ঘটনায় চার যুবকের মুত্যুর খবর শুনতে হলো স্বজনদের।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় বাংলাদেশি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দুই ভাইসহ চারজন এবং ফরিদপুর জেলার দুইজন। নিহতদের প্রত্যেকের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।

প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে পাবেন কিনা চিন্তায় আছেন নিহতের স্বজনরা। তাছাড়া নিজস্ব খরচে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে আনার সামর্থ না থাকায় সরকারি খরচে মরদেহগুলো দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিহতরা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গি এলাকার আহেদ ব্যাপারীর ছেলে ইরশাদ ব্যাপারী (২৮) ও হুমায়ুন ব্যাপারী (২৫), ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ উজানচর নাছির মাতব্বর পাড়ার ওসমান খানের ছেলে কুব্বাত খান (২৫) এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আনসার মাঝি পাড়ার সহের মন্ডলের ছেলে মিরাজ মন্ডল (২২)।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি গাড়িতে নিহতরা কাজের জন্য দাম্মাম থেকে রিয়াদ যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটি। এ সময় গাড়িতে থাকা কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও কয়েকজন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। আর গত শুক্রবার গভীর রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের খবর জানতে পারেন নিহতদের পরিবারের লোকজন।

দুর্ঘটনায় দুই ছেলে হারানো অহেদ ব্যাপারী জানান, অনেক আশা ছিল তার তিন ছেলেদের নিয়ে। কিন্তু আল্লাহ তার দুই ছেলেকে এক সঙ্গে এভাবে নিয়ে যাবেন সেটা তিনি ভাবেননি। তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

তিনি আরও জানান, মেজ ছেলে এরশাদ বহু বছর বিদেশ করলেও ছুটিতে দেশে ফিরে ৪ মাস আগে বিয়ে করে আবার সৌদি যায়। আর ছোট ছেলে হুমায়ুন মাত্র ৭ মাস হলো বিদেশ গেছে। নিজস্ব খরচে ছেলেদের মরদেহ দেশে আনার সামর্থ্য নেই। তাই ছেলেদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে নিহত মিরাজের বাবা ছহের মন্ডল জানান, মাত্র ৭ মাস আগে মিরাজকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন অনেক ধারদেনা করে। সেই ধারদেনা শোধ করতেই আজ তার ছেলে মিরাজকে চলে যেতে হলো। কি করে তিনি এতো টাকা শোধ করবেন এবং ছেলের মরদেহ দেশে আনবেন। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

অপরদিকে নিহত কোব্বাতের বাবা ওসমান খান জানান, তিনি জানেন না কি করে তার ছেলের মরদেহ দেশে আনবেন। তার সব আশা শেষ হয়ে গেছে ।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির জানান, এ দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। দুর্ঘটনায় নিহত ওইসব যুবকের মরদেহ সরকারের পক্ষ থেকে দেশে এনে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী জানান, তিনি নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। মরদেহগুলো দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আলাপ করবেন।

রুবেলুর রহমান/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।