বগুড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৮টি পয়েন্টে ফাটল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭

বগুড়ায় যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৮টি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলা অংশের এসব ফাটল রোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় জনতা।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেলেও বুধবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা তীরবর্তী সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে নাগর নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কাহালু উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আত্রাই নদীর পানির কারণে প্লাবিত হয়েছে নন্দীগ্রাম উপজেলার কয়েকটি গ্রাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার গোদাখালি, ইছামারা, রৌহাদহ, কুতুবপুর, শেখপাড়া, দিঘলকান্দি, হাটশেরপুর ও পারতিতপরল পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওই সব পয়েন্ট দিয়ে নদী হতে লোকালয়ের দিকে পানি ঢুকছে। এছাড়া ধুনট উপজেলার চুনিয়াপাড়ায় মানাস নদীর মুখসহ যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সেই সঙ্গে শিমুলবাড়ীর দুটি পয়েন্ট, বানিয়াজানের দুটি পয়েন্ট, রঘুনাথপুরের একটি পয়েন্ট এবং পুকুরিয়া ভুতবাড়ীর তিনটি পয়েন্টের ফাটল দিয়ে পানি ঢুকছে। এই দুই উপজেলার ১৮টি পয়েন্টেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পানি ঢোকা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল বাঁধে ফাটল নেই দাবি করে বলেন, সোনাতলা থেকে ধুনট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ১০০টি স্থানে ইঁদুরের গর্ত দেখা দিয়েছে। যেখান দিয়ে পানি চুইয়ে লোকালয়ের দিকে ঢুকছে।

পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, বাঁধের যেসব স্থান দিয়ে পানি চোয়াতে শুরু করেছে সেখানে লোকজন কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীও সহযোগিতা করছে। আশা করছি সবস্থানে পানি ঢোকা বন্ধ হবে।

এদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল আলম জানান, বন্যার কারণে আগামী ১৯ তারিখ থেকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলায় দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৭৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হলেও তা অপ্রতুল। বন্যাদুর্গতরা বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্প, বাঁধ ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব ও পয়নিষ্কাশণের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সারওয়ার আলম জানান, দ্বিতীয় দফার বন্যায় একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামের ২৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা, ২১ হাজার ৭৩২ পরিবারে ৭৩ হাজার ৪শ মানুষ, ৩৫১টি বাড়ি সম্পূর্ণ, ৬১০টি বাড়ি আংশিক, ১৬ হাজার ৩৭৫টি কৃষক পরিবারের ৩ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমির ফসল, ৫৯ কিলোমিটার কাঁচা ও সাত কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৫৯টি প্রাথমিক ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৬৬ প্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় পাঠদান বন্ধ, ৬টি কমিউনিটি সেন্টার, এক হাজার ২১৫টি টিউবওয়েল এবং ৭৬টি জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব জলাশয়ের বিপুল পরিমাণ মাস ভেসে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত ২ হাজার ৩৯৫ পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, এক হাজার ৩৪০টি পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্পে ও ২০৫টি পরিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরএআর/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।