গৃহবধূকে গণধর্ষণ : দুই হোটেল কর্মচারীর যাবজ্জীবন
পাবনায় গৃহবধূ রেবেকা সুলতানা গণধর্ষণ মামলায় শহরের হোটেল ছায়ানীরের দুই কর্মচারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) গাজী রহমান এই দণ্ড প্রদান করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের গৃহবধূ রেবেকা সুলতানা (২৫) তার স্বামী কবির হোসেনকে ২০০২ সালের ৬ মে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই বছরের ১১ মে রেবেকা তার ভাসুর এনায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে দেখার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে আসেন। রাতে তারা পাবনা শহরের হোটেল ছায়ানীরের ৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে ওঠেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ওই হোটেলের কর্মচারি জামাল উদ্দিন (৩৫) এবং শফিউল (৩০) ভাসুর এনায়েত হোসেনকে বাথরুমে বেঁধে রেখে রেবেকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
খবর পেয়ে পাবনা থানার পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে আসামিদের হাতে নাতে আটক করে। এ ব্যাপারে রেবেকার ভাসুর বাদী হয়ে পাবনা থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক সোমবার জামাল ও শফিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের রায় দেন। আসামি জামাল উদ্দিন পাবনা শহরের দিলালপুরের ছকির উদ্দিনের ছেলে এবং শফিউল সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার।
একে জামান/এমএএস/আরআই