নওগাঁয় বাদাম চাষে সাফল্য


প্রকাশিত: ০৬:১৭ এএম, ১০ জুন ২০১৫

জমি থেকে বাদাম তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর কৃষাণ-কৃষাণীরা। এবার নওগাঁয় বাদামের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ পতিত জমিতে স্বল্প খরচ এবং ভাল দাম পাওয়ায় বাদাম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে কোন রকম পরামর্শ বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩টি উপজেলা নওগাঁ সদর, রাণীনগর এবং আত্রাই এ বাদাম চাষ করা হয়। এবার ৮৮ হেক্টর জমিতে ঢাকা-১ ও ২, ডিজিএম, বারী এবং ঝিঙ্গা জাতের বাদাম চাষ করা হয়েছে।

বাদাম চাষ করা যেমন সহজ তেমনি এর বাজারজাতকরণেও ঝুঁকি কম। বন্যা ছাড়া অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাদাম ক্ষেতের কোন ক্ষতি করতে পারে না। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে বাদাম ক্ষেত সবুজে ভরে উঠে। রানীনগর উপজেলার পতিত জমিতে ঝিঙ্গা ও ঢাকা-১ জাতের বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাওয়ায় কৃষক উপকৃত হয়েছে। রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নে হামিদপুর, জালালাবাদ ও কালীকাপুর গ্রামে কৃষকরা বাদাম উঠানোর ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মিরাট গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। এবার বৃষ্টির কারণে মাটি শক্ত হয়ে যাওয়া বাদাম বড় হতে পারেন নি এবং ফলন কম হয়েছে। বাদাম চাষ করতে খরচ ও পরিশ্রম খুবই কম। বিঘা প্রতি প্রায় চার হাজার টাকার মত খরচ হয় এবং ফলন হয় ৭ থেকে ৮মণ বাদাম। ইউরিয়া সার, সামান্য পটাস ও ডিএপি দিতে হয়। তবে কোন কিটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

কৃষক অর্জুন বলেন, বিল অঞ্চলের এ জমিগুলো আলু চাষ করার পর পড়ে থাকতো। গত বছর বেশির ভাগ জমি পড়ে ছিল। এবার সেই জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। কাঁচা বাদামের দাম ২ হাজার থেকে ২৫’শ টাকা এবং শুকনা বাদাম সাড়ে তিন থেকে ৪ হাজার টাকার মতো।

সমেজান বিবি জানান, বাদামের ফলন ভাল হয়েছে। বাদাম একটু দেরিতে বিক্রি করতে পারলে ভাল দাম পাওয়া যাবে। এতে সংসারের একটু হলেও উন্নতি হবে।

কৃষক জাবেদ আলী বলেন, গত বছর দশ কাঠা জমিতে বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছেন। এবার ২৫কাটা জমি বর্গা (আদি) নিয়ে বাদাম চাষ করেছি। দাম ভাল পেলে আগামী বছরে আরো বেশি করে বাদাম চাষ করব।

হামিদপুর গ্রামের কৃষক সামছুর রহমান বলেন, যারা বর্গা জমি করে তারাই প্রথম প্রথম বাদাম বিক্রি করে। এতে তারা দাম কম পান। আর যারা জমির মালিক তারা মাস দু’য়েক রেখে বিক্রি করে ভাল দাম পায়।

মিরাট গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, আগে এ এলাকায় কৃষক বাদাম চাষ করতো না। এখন কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে বাদাম চাষ করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় কোন কৃষি কর্মকর্তা আসে না। যেহেতু কৃষক বাদাম চাষের সঠিক নিয়ম ও রোগ বালাই সম্পর্কে জানে না। সেক্ষেত্রে যদি কৃষি কর্মকর্তা এসে পরামর্শ দিত তাহলে কৃষকরা আরো ভালোভাবে বাদাম চাষ করতে পারত এবং ফলনও বেশি হতো।



নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার বলেন, এ উপজেলায় এবার ২৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। পতিত জমিতে ঝিঙ্গা  ও ঢাকা-১ জাতের বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাওয়ায় কৃষক উপকৃত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছে। এ বছরের ফলন আশানুরূপ হওয়ায় এবং কৃষকরা ভাল দাম পাওয়ায় আগামী বছরের বাদাম চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।